গত মাসে ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজের উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হয় বোয়িংয়ের। সরবরাহ চেইনে প্রতিবন্ধকতার কারণে ৭৩৭ ম্যাক্স মডেল সরবরাহে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী সংস্থাটি। তবে সম্প্রতি সরবরাহ ব্যবস্থার কিছুটা প্রতিকূলতা এড়াতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মাধ্যমে উৎপাদন স্থিতিশীল করতে কাজ করছে বোয়িং। খবর রয়টার্স।

উৎপাদন স্থিতিশীল করার জন্য মাসিক উড়োজাহাজ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বোয়িং। এ বিষয়ে ৭৩৭ প্রকল্পের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালক ডেনিস ইং বলেন, আমরা প্রতি মাসে ৩১টি উড়োজাহাজের সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এ বছরের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য অর্জন করতে পারব বলে আশাবাদী আমরা। এটি মূলত নির্ভর করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যথেষ্ট কর্মী আমাদের আছে কিনা তার ওপর।

কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর বোয়িংয়ের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারিগর ও প্রকৌশলবিদরা চাকরিচ্যুত হন। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করাই বোয়িংয়ের উদ্দেশ্য। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে নতুন করে কারিগরি ও প্রকৌশলবিদ নিয়োগের প্রয়োজন অনুভব করছে প্রতিষ্ঠানটি।

মহামারীর পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও উড়োজাহাজ উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। গত মাসে বোয়িং জানায়, নভেল করোনাভাইরাসের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে যন্ত্রাংশ সংযোজনকারী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। এছাড়া শ্রমবাজারে ছিল তীব্র সংকট। ফলে করোনার সংক্রমণ কমলেও নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি।

মে মাসে বোয়িং জানায়, পরিকল্পনামাফিক প্রতি মাসে কারখানায় ৩১টি উড়োজাহাজ উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল। জুনের শেষ নাগাদ এ লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে বলে প্রত্যাশা করছে বোয়িং।

এদিকে মহামারী ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মার্কিন উড়োজাহাজ প্রস্তুতকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়। মহামারীর প্রকোপ কমলে ব্যবসা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ছিল প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে ভূরাজনৈতিক সংকট ও শ্রমবাজারের প্রতিকূল পরিস্থিতি সব মিলিয়ে সে আশার গুড়ে বালি।

৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজে নিরাপত্তা সংকট দেখা দেয়। এর আগে দুর্ঘটনার কারণে ৭৩৭ ম্যাক্স উড়োজাহাজ উড্ডয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। ত্রুটি সংশোধন করে আবারো অব্যাহতভাবে ৭৩৭ ম্যাক্স উৎপাদন ও বিক্রি শুরু করেছে বোয়িং।

সম্প্রতি সচেতনতা বাড়াতে ও তদন্ত করতে আইনজীবী ও নৌ কর্মকর্তা মার্ক ফারভাকে ন্যায়পাল হিসেবে নিযুক্ত করেছে সংস্থাটি।

করোনার প্রকোপ কমে আসায় বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধ শিথিল হতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় উড়োজাহাজ ভ্রমণের ভোক্তা চাহিদা অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। ফলে উড়োজাহাজের চাহিদাও ছিল প্রবল। তবে উৎপাদন ও সরবরাহ বিলম্বের কারণে চাহিদা পূরণ হয়নি।