চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ৬৪টি ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশের জানুয়ারিতে মোট উৎপাদন ১৬ হাজার ২৯০ কোটি টন। ২০২০ সালের জানুয়ারির সঙ্গে তুলনা করলে এ উৎপাদন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হারে বেড়েছে। বিশ্বের ৯৯ শতাংশ অপরিশোধিত ইস্পাত এ দেশগুলোই উৎপাদন করে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) হিসাব অনুযায়ী, এ বছর জানুয়ারিতে এ শিল্প ধাতুর উৎপাদন বেড়েছে ভারতেও। গত বছরের জানুয়ারিতে দেশটিতে ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৯৩ লাখ টন। এ বছর একই সময়ে তা ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি টনে।
এ বছরও ইস্পাত উৎপাদনে শীর্ষে আছে চীন। জানুয়ারিতে তারা উৎপাদন করে ৯ দশমিক ২ কোটি টন ইস্পাত। গত বছর একই সময়ে তাদের উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮ দশমিক ৪৩ কোটি টন।
অন্যদিকে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমে গত জানুয়ারিতে জাপানের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ৭৯ লাখ টন। কমেছে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদনও। তবে কিছুটা বেড়েছে রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের উৎপাদন।
ওয়ার্ল্ডস্টিলের প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে জার্মানি ৩৩ লাখ, ব্রাজিল ৩০ লাখ ও ইরান ২৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে।
এক বছরের পরিসংখ্যানে সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, ২০২০ সালে বৈশ্বিক অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের মোট পরিমাণ ছিল ১৮৬ কোটি ৪০ লাখ টন। বিশ্বের কোনো কোনো অঞ্চলে ধাতব পদার্থটির উৎপাদন বেড়েছে। আবার কোথাও দেখা গেছে এর উল্টো চিত্র। তবে সব মিলিয়ে অপরিশোধিত ইস্পাতের সাম্প্রতিক উৎপাদন আগের বছরের চেয়েও দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে।
এদিকে ২০২০ সালে বিশ্বের বৃহত্তম মহাদেশ এশিয়ায় অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৩৭ কোটি ৪৯ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে চীনের উৎপাদনের হার ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৫ কোটি ৩০ লাখ টনে। ২০১৯ সালে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে চীনের অবদান ছিল ৫৩ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারীর বৈশ্বিক মন্দা প্রভাব ফেলেছে ইস্পাত উৎপাদনে। তবে সে সংকট কাটিয়ে ওঠার মধ্য দিয়ে গতি ফিরেছে বিশ্বের শিল্প বাণিজ্যে। বিশ্বের বড় বড় শিল্প-কারখানা চালুর মধ্যমে মূলবান ধাতুটির চাহিদা বেড়েছে।










