ভারতের মসলা উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোর মধ্যে গুজরাট ও রাজস্থান অন্যতম। কিন্তু রাজ্য দুটিতে এ মৌসুমে জিরা বপনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। পাশাপাশি ছিল পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতও। তবে এ বৃষ্টিপাতকে রাজ্য দুটির জিরা চাষের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া জিরা আবাদের জন্য অনুকূল আবহাওয়া ফসল সংগ্রহ পর্যন্তও বজায় থাকবে। সব মিলিয়ে এ মৌসুমে রাজ্য দুটিতে জিরার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ভারতে উৎপাদিত জিরার প্রায় পুরোটা আসে গুজরাট ও রাজস্থান থেকে। তবে রাজ্য দুটিতে জিরার বপন মৌসুমে ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এতে কৃষকদের প্রায় এক মাস দেরি করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বপন শুরু করতে হয়।
গুজরাটে এ মৌসুমে জিরার বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে উল্লেখ করে ডাভাল এগ্রি এক্সপোর্টের প্রধান নির্বাহী (সিইও) জয় চান্দারানা বলেন, এ মৌসুমে আবহাওয়া ঠিক হওয়ার পরই কৃষকরা জিরা বপন শুরু করেন। এ রাজ্যে এবার মসলা পণ্যটির উৎপাদন এলাকা ২০ শতাংশ বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি।
আর নিমেশ বোহরা নামে একজন রফতানিকারক মনে করেন, রাজ্যটিতে এবার জিরার উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
ভারত থেকে রফতানিকৃত মসলা পণ্যের মধ্যে জিরা দ্বিতীয়। দেশটির মসলা রফতানিকারকরা মনে করেন, এ মৌসুমে জিরা আবাদ বিলম্ব হওয়ায় ফসল সংগ্রহও প্রায় এক মাস পিছিয়ে যাবে। ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চে এবার ফসল সংগ্রহ করতে হবে। তবে বিরূপ আবহাওয়ায় এবার ফসল সংগ্রহ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হবে।
এশিয়ান স্পাইসের অন্যতম অংশীদার ইউ কার্তিক বলেন, জানুয়ারিতে আবহাওয়ার কারণে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ভারতের স্পাইস বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরুতে শেষ হওয়া গত মৌসুমে দেশটিতে জিরার উৎপাদন ১২ শতাংশ কমে ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৭২ টন হয়েছে। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশটি থেকে রফতানি হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৩০০ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।









