দিনাজপুরে হিলিতে দুদিনের ব্যবধানে দেশীয় নতুন আলুর দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ টাকা। ১৫ ডিসেম্বর থেকে ভারতীয় আলু আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ও হিমাগারগুলোয় থাকা পুরনো আলুর মজুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় এ মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে বাজারে দেশীয় নতুন আলু ওঠার পরেও দাম বাড়তি থাকায় ক্ষোভ জানিয়েছেন ক্রেতারা। বিক্রেতারা বলছেন, কিছুদিন গেলে পুরোদমে দেশীয় নতুন আলু বাজারে আসতে শুরু করবে। তখন দামও কমে আসবে বলে মনে করেন তারা।

সরেজমিনে গতকাল হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানেই উঠেছে দেশীয় সাদা ও লাল বর্ণের নতুন আলু। এ দুই জাতের আলু দুদিন আগেও পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা দরে। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ টাকায়। আর খুচরা পর্যায়েও পণ্যটির দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৫৫-৬০ টাকা থেকে বেড়ে গতকাল বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকায়। পুরনো আলুর সরবরাহ কমায় নতুন আলুর বাজার চড়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। দুয়েকটি দোকানে থাকা পুরনো আলু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

হিলি বাজারে আলু কিনতে আসা ইয়াকুব আলী বলেন, ‘প্রতি বছর দেখে আসছি যখন বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করে সে সময় দাম কিছুটা বেশি হয়। কিন্তু যতদিন যায় তত আলুর দাম কমতির দিকে থাকে। কিন্তু এবার উল্টো। দুদিন আগে যে আলু ৫০ টাকায় নেমেছিল সে আলুর দাম দুদিন না যেতেই ৬০ টাকায় উঠে গেছে। ভারত থেকে আলু আমদানি বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসায়ীরা আলুর দাম বাড়িয়ে দিল। এটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীদের কারসাজি। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।’

দিনাজপুরের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিতভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। 

কেউ যেন অহেতুক কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোনো পণ্যের দাম বাড়াতে না পারেন, সে ব্যাপারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাকে আর্থিক জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

আলু কিনতে আসা রেশমা আকতার বলেন, ‘যেকোনো রান্নায় আলু ব্যবহার করা যায়। এ কারণে প্রতিদিনই আমাদের আলু দরকার। কিন্তু দিন দিন দাম বেড়ে আমাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে। কোনো বছরই আলুর দাম ৬০ টাকার ওপর খেতে হয়নি। কিন্তু এ বছর সম্পূর্ণ উল্টা। এক কেজি আলু ৭০ টাকা দিয়ে কিনে খেতে হয়েছে। বাড়তি দামের কারণে আগে থেকেই আলু খাওয়া কমিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু বাজারে নতুন আলু উঠতে শুরু করায় মনে করেছিলাম দাম কিছুটা কমবে। কিন্তু সেটি আর হচ্ছে না বলেই মনে হলো। এখন নতুন আলু উঠতে শুরু করেছে। বাজারে সব দোকানেই পর্যাপ্ত পরিমাণে নতুন আলু পাওয়া যাচ্ছে। তার পরও কেন দাম বাড়ছে?’

হিলি বাজারের আলু বিক্রেতা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় গত অক্টোবরে হঠাৎ করেই দেশে আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছিল। সরকার তখন ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয়ায় দাম কমতে শুরু করেছিল। ৪০-৪৫ টাকায় দাম নেমে গিয়েছিল। কিন্তু ১৫ ডিসেম্বর আমদানির অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন বাজারে ভারতীয় আলুর সরবরাহ নেই। আবার হিমাগারগুলোয় থাকা পুরনো আলুও বিক্রি হয়ে গেছে। এ কারণে বাজার এখন সম্পূর্ণরূপে নতুন আলুর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এখনো দেশের সব অঞ্চলে পুরোপুরি নতুন আলু উঠতে শুরু করেনি। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় মোকামগুলোয় আলুর দাম বাড়তির দিকে। তবে অল্পকিছু দিন গেলে দেশের সব এলাকায় আলু উঠতে শুরু করলে বাজারে সরবরাহ যেমন বাড়বে, তেমনি দাম কিন্তু কমে আসবে।’