সরকারের পক্ষ থেকে খোলা ও বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম কমানো হয়েছে। কিন্তু সরকারি ঘোষণার তিনদিন পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরের হিলিতে মিলছে না কম দামের সয়াবিন তেল। এখনো বাড়তি মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি। নতুন মূল্যের তেল না পাওয়ায় কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে না দাবি বিক্রেতাদের।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে সভায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৭৩ টাকা থেকে লিটারে ১০ টাকা কমিয়ে ১৬৩ টাকা নতুন দর নির্ধারণ করা হয়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। ১ মার্চ থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। কিন্তু এখনো হিলিতে বাড়তি মূল্যেই সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে।
হিলি বাজারে সয়াবিন তেল কিনতে আসা মেহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আজও (রবিবার) আমাদের নির্ধারিত দামের বেশিতে সয়াবিন তেল কিনতে হয়েছে। সরকারি দামে তেল তো পাওয়া যাচ্ছেই না, আবার দোকানভেদে দাম আগের চেয়েও বেশি নেয়া হচ্ছে। খোলা তেল কেউ ১৬০ টাকা রাখছে, আবার কেউ ১৬৫ টাকা। আর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৭০ টাকা রাখা হচ্ছে।’
অন্য ক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, ‘কম দামের তেল হিলি বাজারের কোনো দোকানেই পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের দাম কমার বিষয়টি শুধু ঘোষণা পর্যন্তই সীমিত। বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। এখনো বাড়তি দামেই বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে বাড়তি দামে বিক্রি করছে।’
হিলি বাজারের তেল বিক্রেতা উৎপল চন্দ্র বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৩ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৪৯ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। ১ মার্চ থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হওয়ার কথা বলেছিল সরকার। কিন্তু বিভিন্ন তেল কোম্পানি এখন পর্যন্ত সে নতুন মূল্যের তেল আমাদের কাছে সরবরাহ করেনি। কোম্পানির প্রতিনিধি এখনো তেলের ক্রয়াদেশ নিতে আসেনি। এ কারণে আমরা আগের কেনা সয়াবিন তেল আগের দামেই বিক্রি করছি। বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৭০ টাকা ও খোলা সয়াবিন ১৬০ থেকে ১৬২ টাকা বিক্রি করছি।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের সহকারি পরিচালক মমতাজ বেগম বলেন, ‘বাজারে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে জেলার বিভিন্ন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যদি অহেতুক কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি করে আর যদি সে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে জরিমানাসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’










