২০২৫ সালে জাপানে নবজাতকের সংখ্যা ইতিহাসে সর্বনিম্নে নামতে পারে, এ সংখ্যা জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চের সর্বশেষ পূর্বাভাসের চেয়েও কম। এতে দেশটির অর্থনীতি, রাজস্ব ব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর চাপ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর এফটি।

চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসের (জানুয়ারি-অক্টোবর) জন্মসংক্রান্ত সরকারি প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ করে জনসংখ্যাবিদরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, পুরো বছরে জাপানি নবজাতকের সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজারের নিচে নামতে পারে। দেশটিতে ১৮৯৯ সাল থেকে জন্মসংক্রান্ত তথ্য লিপিবদ্ধ করা শুরু হওয়ার পর এটি হবে সর্বনিম্ন। জাপান সরকারের পূর্বাভাসে এমন স্তরে জন্মসংখ্যা নামার কথা ছিল ২০৪১ সালের পর। কিন্তু বাস্তবে প্রবণতা সেই সময়সীমা ১৬ বছর এগিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যে দেখা দিচ্ছে।

জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ ২০২৩ সালে যে মধ্যম পূর্বাভাস হালনাগাদ করেছিল, সেখানে ২০২৫ সালে জন্মসংখ্যা ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৪৯ হাজার। এমনকি সবচেয়ে ‘হতাশাবাদী’ পূর্বাভাসেও বলা হয়েছিল প্রায় ৬ লাখ ৮১ হাজার শিশু জন্মাবে। সম্ভাব্য সংখ্যা এসব অনুমানেরও নিচে থাকতে পারে বলে সতর্ক করছেন গবেষকরা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির জন্য এ পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অভিবাসনের ওপর কড়াকড়ির মাঝে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করছেন তিনি। এর মধ্যে জনসংখ্যা সংকোচনও মোকাবেলা করতে হচ্ছে সরকারকে। গত নভেম্বরের শেষ দিকে তিনি জনসংখ্যা সংকট মোকাবেলায় একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেন। বিষয়টিকে সানায়ে তাকাইচি দেশের ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

জন্মহার বাড়াতে জাপান সরকার ২০২৪ সালে তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মসূচিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এসব উদ্যোগ কাঙ্ক্ষিত ফল আনতে পারেনি। দেশটিতে বিয়ের সংখ্যা কমে এসেছে ৫ লাখের নিচে, যা ১৯৭২ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রায় অর্ধেক। এছাড়া বিবাহ-বহির্ভূত সন্তান জন্মের হার খুবই কম। ফলে বিয়ে কমার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জন্মসংখ্যায়।

২০২৪ সালে জাপানের জনসংখ্যা কমেছে ৯ লাখেরও বেশি। একই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটির জনসংখ্যাবিদ মাসাকাজু ইয়ামাউচি বলেন, ‘২০২৫ সালে জাপানে জন্ম ২০২৪ সালের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমতে পারে। এমন হলে টানা ১০ বছর জাপানে জন্মসংখ্যা নতুন করে রেকর্ড সর্বনিম্নে নামবে।’

অর্থনীতিবিদ ও বিরোধী রাজনীতিকদের একাংশ মনে করছেন, হতাশাবাদী পূর্বাভাস আমলে নিয়ে সরকারকে নতুন করে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। তবে এ স্বীকারোক্তিও দিতে হবে যে জন্মহার বাড়ানোর এতদিনের উদ্যোগগুলো কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।