২০১৯ জুড়ে প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে বেশির ভাগ কৃষিপণ্যের বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। একই অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য খাতেও। এছাড়া চীনের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে সয়াবিনসহ দেশটির অধিকাংশ কৃষিপণ্যের বাণিজ্য নিম্নমুখী থাকতে দেখা গেছে সদ্য শেষ হওয়া বছরে। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন গম খাত।
দেশটি গমচাষীরা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হলেও বছর শেষে লাভবানই হয়েছে। আর পেছনে অবশ্য মূল অবদান রেখেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো। বিশেষ করে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া। খাতসংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছে।
ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের আঞ্চলিক সহসভাপতি (ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত) জো সোয়ার্স জানান, ২০১৯ সাল যুক্তরাষ্ট্রের গমের জন্য সফল ও উদাহরণের একটি বছর।
অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত মোট গমের প্রায় অর্ধেক আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে দেশটি। তবে বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব অন্যান্য খাতের ন্যায় গমের ওপরও পড়েছে। এছাড়া তুষারপাত ও ভেজা আবহাওয়া পণ্যটির সংগ্রহের ক্ষেত্রে কঠিন অবস্থা তৈরি করেছে।
তবে সবকিছুর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের গমের জন্য সুখবর বয়ে এনেছে অ্যাসোয়িশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন বা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো। এ জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশ ১০টি হলো ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বের শীর্ষ আঞ্চলিক গম আমদানিকারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এ অঞ্চলটি।
একই সময় এ অঞ্চলটি মার্কিন গম আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন হয়ে উঠেছে মার্কিন গমের শক্তিশালী বাজার। বছর শেষে ফিলিপাইনের গম আমদানি দাঁড়াতে পারে ৭২ লাখ টনে, এক দশক আগের তুলনায় যা দ্বিগুণের বেশি। দেশটির মোট আমদানীকৃত গমের ৯৫ শতাংশ হিস্যা থাকার প্রত্যাশা রয়েছে মার্কিন গমের দখলে। সূত্র: এজিউইক









