আগামী ঈদুল আজহার আগেই সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্পনগরীর সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (সিইটিপি) ও ট্যানারিগুলোয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের নির্দেশ দিয়েছেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা। গতকাল সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত বিসিক চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি শিল্পনগরী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিসিক ও সিইটিপি পরিচালনা প্রতিষ্ঠান ঢাকা ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ওয়েস্টেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট কোম্পানি লিমিটেডের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শিল্পনগরী ও সিইটিপির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
সিইটিপি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ইফ্লুয়েন্ট বিল এবং পানির বিল আদায় শতভাগে উন্নীতকরণে জোর দেয়া, সিইটিপির পাশাপাশি ট্যানারিগুলোর কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণে পরিদর্শন দল গঠন করে নিয়মিত ট্যানারি পরিদর্শনপূর্বক ট্যানারি মালিকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তার নির্দেশ দেন সচিব।
বিসিক ও সিইটিপি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিআইইডব্লিউটিপিসিএলের পক্ষ থেকে শিল্পনগরীর প্লটের লিজ ডিড সম্পাদন, সিইটিপির সমস্যা ও তা থেকে উত্তরণে সম্ভাব্য সমাধানের বিষয়ে সিনিয়র সচিবকে অবহিত করা হয়। আগামী ঈদুল আজহার আগেই সিইটিপির সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্নসহ কমপ্লায়েন্স অর্জনে ওয়ার্ক প্ল্যান দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে জাকিয়া সুলতানা বলেন, ‘যথাযথভাবে চামড়া প্রক্রিয়াকরণের লক্ষ্যে ঢাকায় আরেকটি এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে আরো দুটি সিইটিপি স্থাপনের চেষ্টা চলছে।’ যেসব ট্যানারি প্লট নিয়ে দীর্ঘদিন ফেলে রেখেছে, তাদের প্লট দ্রুত বাতিল করে নতুন উদ্যোক্তাদের দেয়ার জন্য তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। নতুনভাবে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তা ও উপজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি। আলোচনা সভায় বিসিক চেয়ারম্যান মুহ. মাহবুবর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শামীমুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সিনিয়র সচিব সিইটিপির বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন এবং মেরামত কার্যক্রম জোরদারকরণে গুরুত্বারোপ করেন। সিইটিপির ল্যাবরেটরি পরিদর্শনকালে এটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, দেশে পরিবেশদূষণ কমিয়ে কারখানাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে নিতে এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মান সনদ অর্জনের লক্ষ্যে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানাগুলো সরিয়ে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে নেয়া হয়েছিল। সেখানে প্রায় ৫৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারও (সিইটিপি) তৈরি করা হয়। কিন্তু সিইটিপি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় ট্যানারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো এলডব্লিউজি সনদ পাচ্ছে না। ফলে এর প্রভাব পড়ছে সার্বিক রফতানিতে। বর্তমানে সাভারে সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্টের (সিইটিপি) ২৫-৩০ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। তবে ঈদুল আজহার সময়ে অন্তত ৪৫ হাজার কিউবিক মিটার বর্জ্য শোধনের প্রয়োজন পড়ে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বলছে, চামড়া খাতের বৈশ্বিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পেতে গেলে ১ হাজার ৬০০ নম্বর পেতে হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানগুলোর আছে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৩৫০ পয়েন্ট। বাকি ৩০০ থেকে ৩৫০ পয়েন্ট কোম্পানিগুলোর অর্জন করার কথা। কিন্তু সেটি প্রতিষ্ঠানগুলো করতে পারছে না।









