তবে আয় কমলেও এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। অবশ্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির আয় কমার সম্ভাবনার কথা গত মাসেই জানিয়েছিল গ্রামীণফোন।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা, যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৩ হাজার ৮৩৪ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ৬৬২ কোটি টাকা, যা আগের হিসাব বছরের একই সময়ে ছিল ৬৩৪ কোটি টাকা। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪৬ টাকা ৩৯ পয়সায়।
আর্থিক ফলাফলের বিষয়ে গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, ‘বহুমাত্রিক বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমরা দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে প্রান্তিকটি অতিক্রম করে প্রায় ৫৮ শতাংশ স্থিতিশীল ইবিআইটিডিএ মার্জিন নিশ্চিত করেছি। ফাইন্যান্সিয়াল এবং অপারেশনাল ক্ষেত্রেই বাহ্যিক ঝুঁকি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখে স্থিতিশীল পারফরম্যান্স বজায় রেখেছি। আমরা নেটওয়ার্ক, আইটি, স্পেকট্রাম এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমসহ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছি, পাশাপাশি বৃহত্তর রূপান্তর ও অটোমেশন উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছি। এসব বিনিয়োগ আরো দক্ষ, সম্প্রসারণযোগ্য এবং ডিজিটালভিত্তিক অপারেটিং মডেল গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি খরচ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ২১৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১১০ শতাংশ অন্তর্বর্তী নগদ ও ১০৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২১ টাকা ৯০ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৪১ টাকা ৪৯ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। এর মধ্যে ১৭০ শতাংশ চূড়ান্ত ও ১৬০ শতাংশ অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৬ টাকা ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৭ টাকা ৯৫ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১২৫ শতাংশ চূড়ান্ত নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে গ্রামীণফোনের ইপিএস হয়েছে ২৪ টাকা ৪৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২২ টাকা ২৯ পয়সায়। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৯ টাকা ৩৯ পয়সায়।
গ্রামীণফোনের সর্বশেষ ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস পিএলসি (সিআরআইএসএল)।
২০০৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া গ্রামীণফোনের অনুমোদিত মূলধন ৪ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৫০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৩ হাজার ৫১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১৩৫ কোটি ৩ লাখ ২২। এর ৯০ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৭১, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ৫১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।










