ইরানে ২১ মার্চ নতুন অর্থবছর শুরু হয়। চলে পরের বছরের ২০ মার্চ পর্যন্ত। সেই হিসাবে এখন ইরানে ২০২০-২১ অর্থবছর চলছে। এ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (২১ মার্চ-২০ নভেম্বর) ইরান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৯২ টন জাফরান রফতানি হয়েছে। এ সময় ইরান মোট ৫৩ দেশে দামি এ মসলা রফতানি করেছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের কাস্টমস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এ তথ্য জানিয়েছে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল ট্রিবিউন ও বিজনেস রেকর্ডার।
ইরানের রাজস্ব বিভাগের মুখপাত্র রৌহুল্লাহ লতিফি দেশটির গণমাধ্যমকে জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে ৫৩টি দেশে ১৯২ টন জাফরান রফতানি করে ইরানের সব মিলিয়ে ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ সময় ইরান থেকে রফতানি হওয়া জাফরানের ৮০ শতাংশ গেছে মাত্র পাঁচটি দেশে। দেশগুলো হলো হংকং, স্পেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), আফগানিস্তান
ও চীন। একই সময়ে এ পাঁচটি দেশে জাফরান রফতানি করে ইরান পণ্যটির রফতানি আয়ের ৮৪ শতাংশ অর্জন করেছে।
দেশটির রাজস্ব বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে হংকংয়ে ৫৩ দশমিক ১৫ টন জাফরান রফতানি করেছে ইরান। আয় হয়েছে ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৩০ হাজার ডলার। এ সময় ইরান থেকে স্পেন ও ইউএইতে যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ১৮ টন ও ৩১ দশমিক ৪১ টন জাফরান রফতানি হয়েছে। আয় হয়েছে যথাক্রমে ২ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার ও ১ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।
২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ইরান থেকে আফগানিস্তানে ১৭ দশমিক ৯৯ টন জাফরান রফতানি হয়েছে। আয় হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। একই সময়ে চীনে ১৮ দশমিক ৫৯ টন জাফরান রফতানি করে ১ কোটি ৭ লাখ ডলার আয় করেছে ইরান।
ইরান বিশ্বের শীর্ষ জাফরান উৎপাদনকারী দেশ। দামি এ মসলার রফতানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইরান। জাফরানের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ৪৮ শতাংশ ইরান এককভাবে জোগান দেয়। ইরানের পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও চমত্কার জলবায়ু জাফরান চাষের জন্য খুবই উপযোগী। দেশটিতে উৎপাদিত জাফরানের মানও বেশ উন্নত। বিশ্ববাজারে ইরানি পণ্যটি পারসিয়ান জাফরান নামে পরিচিত। গুণগত মান ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি জাফরানের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক।
বাড়তি চাহিদার কারণে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ইরান থেকে ৫৩টি দেশে জাফরান রফতানি হয়েছে। ওপরে উল্লিখিত পাঁচটি দেশ ছাড়াও এ সময় কুয়েত, কাতার, তাইওয়ান, ফ্রান্স, ইতালি, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, ভারত, সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, ইরাক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, লেবানন, ফিলিপাইন, কাজাখস্তান, প্রভৃতি দেশে জাফরান রফতানি করেছে ইরান, যা করোনা মহামারী ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ইরানি অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।










