মিউচুয়াল ফান্ডের আয়ের প্রধান উৎস শেয়ারবাজার। যদিও বর্তমানে শেয়ারবাজারে এ মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ খুবই কম। যেটি ১৬ হাজার কোটি টাকার মতো। কিন্তু এটি হওয়া উচিত ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা।

গতকাল ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে ‘রোল অব এসডিজি অ্যানালিটিক্স ইন ক্যাপিটাল মার্কেট-বেজড ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এ মত দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. মিজানুর রহমান। এতে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ছিলেন আরেক কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফের সভাপতি ড. হাসান ইমাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর অ্যান্ড ইকোনমিস্ট জুবায়ের হোসেন। বিএসইসি কমিশনার ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘‌মিউচুয়াল ফান্ড খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া হিসাব মান পরিপালনে কঠোর কমিশন। এ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে এফডিআরের তুলনায় ভালো রিটার্ন পাওয়া যায়। এ খাত যাতে আরো ভালো রিটার্ন দিতে পারে, সে লক্ষ্যে কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।’

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নিরসন করে, যা ব্যক্তিগতভাবে করা কঠিন। এজন্য বিনিয়োগকারীদের মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করতে হবে। ভালো কোম্পানি বাজারে না আনলে মিউচুয়াল ফান্ড ভালো করবে না।’

রেস গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এএএমসিএমএফের সভাপতি ড. হাসান ইমাম বলেন, ‘মিউচুয়াল ফান্ড শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এ খাতটি অনেক বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ভালো করছে। শেয়ারবাজার যেখানে নেতিবাচক, সেখানে এ খাতের উন্নতি হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গত অর্থবছরে শেয়ারবাজার নেতিবাচক ছিল। যেই ব্লু চিপস কোম্পানিতে মিউচুয়াল ফান্ড থেকে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা হয়, সেই ব্লু চিপস-৩০ সূচকও নেতিবাচক ছিল। এ অবস্থার মধ্যেও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ২০২২-২৩ অর্থবছরের ব্যবসায় ২৮৩ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। এমনকি গত ১০ বছরের মধ্যে সাত বছরই সূচক বৃদ্ধির তুলনায় মিউচুয়াল ফান্ড ভালো করেছে।’

আগামী ১০ বছরে এ খাত অনেক এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা।