দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। দু’দিনের ব্যবধানে মসলাজাতীয় পণ্যটির দাম পাইকারিতে কেজিতে ৮ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং চাহিদা কমে আসায় কমতির দিকে রয়েছে পেঁয়াজের বাজার।
গতকাল হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুদিন আগেও আমদানীকৃত প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু এদিন সেটি কমে বিক্রি হচ্ছে ৭২ থেকে ৭৫ টাকায়। আর দেশীয় জাতের পেঁয়াজ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও সেটি কমে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত সরকার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় ২০ দিন ধরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বন্ধ রয়েছে। সেই সঙ্গে আগের এলসির বিপরীতে আমদানি করা পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। কিন্তু বর্তমানে মিয়ানমারসহ অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পুরনো এলসির বিপরীতে পেঁয়াজ আসায় বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কিছুটা বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও বাজারে চাহিদা কম আছে। সে কারণেই এখন পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমেছে।
হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী রাশেদুল ইসলাম ও বাংলাহিলি বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন জানান, দাম বাড়ার কারণে বাজারে পেঁয়াজের ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে। আগে যেখানে একজন ক্রেতা দুই কেজি পেঁয়াজ কিনতেন, এখন সেখানে আধা কেজি বা এক কেজি পেঁয়াজ কিনছেন। যে কারণে দেশের বাজারে আগের তুলনায় পেঁয়াজের চাহিদা খানিকটা কম রয়েছে। যার ফলে দাম কমতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণা করে ভারত। এর আগেই হিলিসহ দেশের স্থলবন্দরগুলোতে ভারতের অভ্যন্তরে রফতানি হওয়ার অপেক্ষায় থাকা ট্রাকে আটকে পড়ে কয়েক হাজার টন পেঁয়াজ। এর মধ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের প্রচেষ্টার পর ৪ অক্টোবর থেকে আটকে থাকা পেঁয়াজ বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় ভারত সরকার।









