নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়ায় গত বুধবার একদিনেই এর দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। দাম বাড়ার এ ধারা গতকালও অব্যাহত ছিল। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) পরবর্তী মুদ্রানীতির গতিপথ পর্যালোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। এসবের সম্মিলিত প্রভাবে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে গতকাল স্বর্ণের দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এতে প্রতি আউন্সের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১২ ডলার ৮৩ সেন্টে। এ সময় এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে পৌঁছেছে ৫ হাজার ৩১ ডলার ২০ সেন্টে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান নেমো ডট মানির বিশ্লেষক জেমি দত্ত বলেন, ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ এখন মূল্যবান ধাতুর বাজারের মূল কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিভিন্ন খবরে জানা যাচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এ ধরনের খবর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, জেনেভায় চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে বেশকিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়ে গেছে। হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা এক বৈঠকে বসেন। সেখানে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে মার্চের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করতে হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভও এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘ইরানের ওপর নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা হলে তার ফল ভয়াবহ হতে পারে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডের জানুয়ারির সভার কার্যবিবরণী (মিনিটস) গত বুধবার প্রকাশ হয়েছে। এতে দেখা যায়, নীতিনির্ধারকরা আপাতত সুদহার না বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে কয়েকজন নীতিনির্ধারক আবারো সুদহার বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কমলে অনেকে সুদহার কমানোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সাধারণত সুদহার কমলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণে বিনিয়োগে বেশি ঝোঁকেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারসংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আগামী জুনে প্রথমবারের মতো সুদহার কমানো হতে পারে।
ক্যাপিটালডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, ‘স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে বড় কোনো কারণ থাকলে তা হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সম্ভাবনা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা প্রাকৃতিকভাবেই বাড়ে।’
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে গতকাল রুপার দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৭৯ ডলার ২৪ সেন্টে পৌঁছেছে। স্যাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওলে হ্যানসেন জানান, সরবরাহ সংকট এবং বাজারে কম মজুদের কারণে রুপার দাম বাড়ছে। তবে দাম পুরোপুরি স্থিতিশীল হতে আউন্সপ্রতি মূল্য ৮৬ ডলারের ওপরে ওঠা প্রয়োজন।
অন্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ১০০ ডলার ৪৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এ সময় প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৭৩৩ ডলার ৪৫ সেন্টে লেনদেন হচ্ছে।










