মহামারীর অভিঘাত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোর তুলনায় শক্তিশালী ছিল দেশটির প্রবৃদ্ধির হার। ২০২৩-২৪ অর্থবছর জুড়ে এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকা, বেসরকারি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি হার প্রত্যাশা অনুয়ায়ী নিয়ন্ত্রণে থাকায় এ সম্প্রসারণ ঘটবে বলে দাবি করা হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত মাসিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে। খবর দ্য হিন্দু। 

প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে সম্প্রতি চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত। ফলে জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়তে পারে। পাশাপাশি কঠোর হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদি সত্যিকার অর্থেই এ নিম্নমুখী প্রবণতা থাকে, তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক বাজারেও। অন্য দেশগুলোয়ও বাড়বে ঝুঁকি।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির আকার ২৫ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। সেখানে ৩ দশমিক ৭৩ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে ভারতের অবস্থান পঞ্চম। প্রধান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ভারতের প্রবৃদ্ধি। গত পাঁচ বছরে দেশটিতে শিল্প ও আবাসন খাতে সম্প্রসারণ হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সামনের রবি শস্যের মৌসুমে প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হারও আরো কমে আসবে। দাম আরো কমবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের। বর্তমানে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম মাঝামাঝি। গ্রীষ্মে টমেটো ও সবজির দাম ব্যাপক বেড়ে গিয়েছিল। বর্তমানে তা নিম্নমুখী হয়ে সহনীয় মাত্রায় নেমেছে।

প্রতিবেদন জানিয়েছে, ভারতের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো সেখানকার দ্রুতবর্ধনশীল মধ্যবিত্ত শ্রেণী। এদের কারণেই মূলত দেশটিতে ভোক্তাব্যয় বাড়ছে। দ্রুতবর্ধনশীল ভোক্তাব্যয়ের কারণে গড়ে উঠছে শিল্প খাত। ভারতের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সম্প্রসারণ হচ্ছে শিল্পোৎপাদন, অবকাঠামো ও পরিষেবা খাত।

পাঁচ বছরে ভারতে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের আকারও ছিল উল্লেখযোগ্য। গুগল, ফেসবুক, মাইক্রন, টেসলার মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই ভারতীয় বাজার সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠছে। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে ভারতে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভারত হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈশ্বিক বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, কেমিক্যালস, ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স, স্বাস্থ্য খাতে ভারতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবে বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের অক্টোবরের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২১ ও ২০২২ সালে দুই বছর দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পর ভারতীয় অর্থনীতি ২০২৩ সালেও শক্তিশালী অবস্থান দেখাতে চলছে। ২০২৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারতের জিডিপি বাড়বে ৬ দশমিক ২ থেকে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থবছরের সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি হবে ভারত। এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।