ডিজিটাল মুদ্রাবাজারে অস্থিরতার কারণে কয়েকশ কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান কয়েনবেজ ও ব্লকফাই। ছাঁটাইকৃত এসব কর্মী প্রতিষ্ঠান দুটির মোট কর্মী সংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান কয়েনবেজের প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান আর্মস্ট্রং জানান, যেসব কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত ই-মেইলের মাধ্যমে এ ব্যাপারে জানানো হয়েছে। ছাঁটাইকৃত কর্মীদের কোম্পানির নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় সব প্রবেশাধিকার তাত্ক্ষণিকভাবে বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছাঁটাইকৃত এসব কর্মীর উদ্দেশে দেয়া এক বিবৃতিতে আর্মস্ট্রং জানান, আমি বুঝতে পারি যে, কোম্পানির নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারানোর বিষয়টা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক। আমি এমন কোনো অভিজ্ঞতার মুখোমুখি করতে চাইনি, যেমনটা আপনারা অনুভব করছেন। আমি আপনাদের ধন্যবাদ দিতে চাই এজন্য যে, আপনারা কোম্পানির জন্য সর্বোচ্চটুকু দিয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য আমি দুঃখিত। আমি এটিও প্রত্যাশা করি যে, কোম্পানি সম্প্রসারণ করা হলে ভবিষ্যতে আপনাদের আবারো কাজে ফিরিয়ে নিতে পারব। কোম্পানির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতি আপনাদের কঠোর পরিশ্রম ও আন্তরিকতা ব্যতীত আমরা কখনই আজকের অবস্থানে পৌঁছতে পারতাম না। আমাদের সফলতার পেছনে আপনাদের পরিশ্রমের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।

আর্মস্ট্রং জানান, কয়েনবেজের অন্তত ২০ শতাংশ কর্মী তাদের চাকরি হারিয়েছেন। সংখ্যার হিসেবে এটি প্রায় ১ হাজার ১০০ জনের মতো। এর আগে কোম্পানিটি তাদের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয় এবং বেশ কয়েকটি চাকরির সুযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।

কয়েনবেজের মতো কর্মী ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে আরেক ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ব্লকফাই। কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী জ্যাক প্রিন্স জানান, প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ কর্মী কমিয়ে আনা হবে। ফলে প্রায় ১৭০ জন কর্মী চাকরি হারাবে। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের মতো আমরাও সামষ্টিক অর্থনীতির আকস্মিক পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রভাবিত হচ্ছি।

প্রযুক্তি খাতে আকস্মিক পতনের পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে পতন কোম্পানি দুটিকে বেশ নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। এক মাসে স্থিতাবস্থার পর ক্রিপ্টোকারেন্সির বাজারে স্ট্যাবল কয়েন হিসেবে পরিচিত টেরা ব্লকচেইনের নেতিবাচক অবস্থার পর ক্রিপ্টো ব্যাংক সেলসিয়াস তাদের গ্রাহকদের কোনো ধরনের উত্তোলন স্থগিত করেছে। মূলত দেউলিয়া হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর সঙ্গে বিটকয়েন ও ইথারিয়ামের দামও ২৫ শতাংশ কমে এসেছে।