জ্বালানি তেলের উত্তোলন হ্রাস করতে ওপেক প্লাস জোটের মধ্যকার চুক্তির সময়সীমা আগামী বছরের জুন পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী মাসে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থিত ওপেকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জোটের বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত আসতে পারে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।
জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক ও রাশিয়ার নেতৃত্বে ওপেকবহির্ভূত দেশগুলো নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস জোট। জোটের মধ্যকার করা চুক্তি অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে বাজার চাঙ্গা করতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলন কমিয়ে আনছে সদস্য দেশগুলো। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত উত্তোলন কমিয়ে আনার কথা রয়েছে। তবে বাজার চাঙ্গা হওয়ার তেমন সম্ভাবনা না দেখায় নতুন করে উত্তোলন হ্রাসের সময়সীমা বাড়ানোর চিন্তা করছে ওপেক ও ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর নেতৃত্বে থাকা সৌদি আরব ও রাশিয়া।
আগামী ৫ ডিসেম্বরে ওপেক প্লাস জোটের বৈঠকে ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং বা আইপিও ঘোষণা করতে পারে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো। যা বিশ্বের বৃহত্তম আইপিও হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওপেকের একটি সূত্র জানিয়েছে, জোটের সামনে এখন দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হলো আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বৈঠকে জ্বালানি তেলে উত্তোলন হ্রাসের সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে। অথবা বাজার পর্যবেক্ষণের জন্য মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করা। মার্চে বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে উত্তোলন হ্রাসের চুক্তির সময়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
তবে আগামী বৈঠকেই সময় বাড়ানোর বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে ওই সূত্র। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের বাজারে আমরা একটা ইতিবাচক বার্তা দিতে চাই। যে কারণে ডিসেম্বরেই এ চুক্তির সময়সীমা বাড়ানোর বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। সৌদি আরব কখনো চায় না, জ্বালানি তেলের বাজার নিম্নমুখী হোক। এ কারণে তারা তাদের আইপিও দিয়েও দাম বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
ওপেক সূত্রটি আরো জানিয়েছে, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা কাটেনি। বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি ও ইরাক, নাইজেরিয়ার মতো ওপেকভুক্ত দেশগুলো চুক্তি অনুযায়ী উত্তোলন করতে না পারায় এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অন্যদিকে ওপেকের আরো দুটি সূত্র জানিয়েছে, ওপেকের কার্যত নেতা সৌদি আরব নতুন করে উত্তোলন হ্রাসের চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই সদস্যভুক্ত দেশগুলোর উত্তোলন হ্রাস দেখতে চাই।









