রাজধানীতে আয়োজিত এক গোলটেবিলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেছেন, আঁশযুক্ত খাবার, পরিমিত পানি, ব্যায়াম ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণের মতো ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে পাইলস প্রতিরোধ করা সম্ভব। তারা জানান, পাইলস প্রতিরোধযোগ্য। এ ছাড়া প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে অপারেশন ছাড়াই সুস্থ হওয়া যায়। বিষয়টি লজ্জার নয় বলেও তারা মনে করেন।

বুধবার (৩ নভেম্বর) শ্যামলীতে অ্যালায়েন্স হসপিটাল লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স কোলোরেক্টাল ও বায়োফিডব্যাক সেন্টারের উদ্যোগে পাইলস ও কোলোরেক্টাল রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও জনসচেতনতা নিয়ে এ গোলটেবিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রাশিদুল হাসান। বিষয় বিশেষজ্ঞ হিসেবে বক্তব্য দেন জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন অধ্যাপক ডা. এস এম আমজাদ হোসেন, ইউরোলজি ও এন্ট্রোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান, প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিলকিস মাহমুদা এবং ল্যাপারোস্কপিক, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ও সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মামুনুর রহমান।

গোলটেবিলে উপস্থিত ছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী দিলারা জামান, সাবেক ক্রিকেটার আকরাম খান, মহিলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় জান্নাতুল ফেরদাউস সুমনা এবং অভিনয়শিল্পী আব্দুন নূর সজল। তারা বলেন, সাধারণ মানুষের ভুল ধারণা দূর করতে সবাইকে ভূমিকা নিতে হবে।

পাইলস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ল্যাপারোস্কপিক, কোলোরেক্টাল ও পেলভিক ফ্লোর সার্জন ডা. ইসমাত জাহান লিমা, কোলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন অধ্যাপক ডা. তৌহিদুল ইসলাম এবং কোলোরেক্টাল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জন ডা. মেজবাহুল বাহার।

অ্যালায়েন্স হসপিটালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অ্যালায়েন্স কোলোরেক্টাল ও বায়োফিডব্যাক সেন্টারে প্রথমবারের মতো পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসকের সমন্বয়ে আধুনিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এখানে বিশেষভাবে বায়োফিডব্যাক সাপোর্ট, ব্যথামুক্ত কোলোনোস্কপি ও এন্ডোস্কপি এবং সংশ্লিষ্ট রোগ নির্ণয় করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লজ্জা বা ভুল ধারণার কারণে অনেকে চিকিৎসা নেন না। এতে সাধারণ সমস্যা বড় জটিলতায় রূপ নেয়।

আয়োজকরা জানান, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই স্বাস্থ্যসেবা আরো উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

—বিজ্ঞপ্তি