এক মাস বিরতির পর ফের সুদহার বাড়াতে যাচ্ছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ, যা ২২ বছরের সুদহার বৃদ্ধির পরিমাণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির ধীরগতি সত্ত্বেও ফেড সংকোচনমূলক আর্থিক অবস্থান গ্রহণ করছে। খবর তাইপে টাইমস।

মাত্র এক বছরের মধ্যে টানা দশমবারের মতো সুদহার বৃদ্ধির পর গত মাসে ফেড আর্থিক কড়াকড়ি আরোপে খানিকটা বিরতি টানে। ব্যাংকের ঋণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নীতিনির্ধারকদের মার্কিন অর্থনীতির অবস্থা মূল্যায়নে সময় দেয়ার জন্য ফেড এক মাসের এ বিরতি নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীল মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির মধ্যেই এ সম্ভাবনাও শক্তিশালী হয়েছে যে ফেডের রেট-সেটিং ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটি (এফওএমসি) সুদহার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধির পক্ষে ভোট দিতে পারে। যা ফেডারেল তহবিলের হার ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে বাড়বে। ফলে সুদহার বৃদ্ধির পরিমাণ ২০০১ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছবে।

সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকসের সিনিয়র ফেলো জোসেফ গ্যাগনন বলেন, ‘যদি আমাকে বাজি ধরতে বলা হয়, সেক্ষেত্রে বলতে পারি পরবর্তী সভায় ফেড ফান্ডের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াবে।’

ব্যাংক অব আমেরিকা করপোরেশনের প্রধান মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল গ্যাপেন এক নোটে বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস ধীরগতিতে ঘটছে। আমরা মনে করি, কমিটির বেশির ভাগ সদস্য বিশ্বাস করেন, মূল্যস্ফীতির হার হ্রাস অব্যাহত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে আরো ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।’

সিএমই গ্রুপের মতে, ফিউচার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা অবশ্য সুদহার বৃদ্ধির বিষয়ে প্রায় ৯৯ ভাগ সম্ভাবনার কথা বলছেন। গত মাসের সভায় ফেডের কর্মকর্তারা অবশ্য এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তারা মনে করছেন, চলতি বছরের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতিকে সামলানোর জন্য সুদহার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়ানো হতে পারে।

গ্যাগনন আরো বলেন, ‘যদিও তারা ধীরে অগ্রসর হতে চলেছে, যেমন প্রতিটি সভায় বা একটির পর পরবর্তী সভায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট (০.২৫%) করে সুদহার বৃদ্ধির কথা বলছে, তাই আমি মনে করি না যে তারা সহজে থামবে। তবে সেপ্টেম্বরে কী ঘটবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। তাই সভায় (২৫ ও ২৬ জুলাই) সুদহার বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকটির পরবর্তী পদক্ষেপগুলো যাচাই করার জন্য ফেড চেয়ার জেরোম পাওয়েলের সংবাদ সম্মেলনটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। মরগ্যান স্ট্যানলির অর্থনীতিবিদরা গ্রাহকের কাছে একটি নোটে লিখেছেন, জেরোম পাওয়েল ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির ভবিষ্যৎ আর্থিক নীতির সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকও আগামী সপ্তাহে সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াতে পারে। ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদা অর্থনীতিকে উদ্দীপ্ত করতে ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২ শতাংশ লক্ষ্য অর্জন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জাপানের মূল্যস্ফীতি এ লক্ষ্যমাত্রার ওপরেই।