লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) অ্যালুমিনিয়ামের দাম বেড়েছে। ইউরোপের শীর্ষ দুটি ধাতু বিগলন প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দেয়ায় গতকাল সর্বশেষ কার্যদিবসে ধাতুটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। খবর নাসডাক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে ইউরোপজুড়ে বিদ্যুতের দাম রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। ফলে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করতে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এ কারণে অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে উৎসাহ হারাচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাতুটির সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এলএমইতে তিন মাসের সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের দাম স্থির হয়েছে ২ হাজার ৮২৩ ডলার ৫০ সেন্টে। এর আগে দুই কার্যদিবসে ধাতব পণ্যটির বাজার নিম্নমুখী ছিল।

এদিকে সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয়েছে ২০ হাজার ৫৮৫ ইউয়ানে, যা ২৭ অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ।

তথ্য বলছে, ইউরোপের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম বিগলন প্রতিষ্ঠান অ্যালকোয়া স্পেনে তাদের সান সিপরিয়ান প্রকল্পের কাজ দুই বছরের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে স্লোভাকিয়ায় নর্স্ক হাইড্রোর বেশির ভাগ বিগলন কেন্দ্র মোট সক্ষমতার ৬০ শতাংশ উৎপাদন কমিয়ে আনার কথা জানিয়েছে। শুধু এ দুই প্রতিষ্ঠানই নয়, ঊর্ধ্বমুখী ব্যয়ের কারণে ইউরোপের আরো অনেক কোম্পানিই অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে আনার কথা ভাবছে।

এদিকে শুধু ইউরোপেই নয়, বিশ্বজুড়েই অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমছে। চলতি বছরের নভেম্বরেও অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন কমেছে। উৎপাদন হ্রাসে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে চীন। বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধ, কয়লার ঊর্ধ্বমুখী দাম ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধাতুটির উৎপাদনে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে দেশটির সরকার। ইন্টারন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম ইনস্টিটিউট কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বরে অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক উৎপাদন ৫৪ লাখ ৯৭ হাজার টনে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে দশমিক ২২ শতাংশ।

বিশ্বের শীর্ষ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদক চীন। নভেম্বরে দেশটির অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমেছে। চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (এনবিএস) জানায়, নভেম্বরে দেশটি ৩১ লাখ টন প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। অক্টোবরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।