জানুয়ারিতে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক দাম বেড়েছে। মূলত উদ্ভিজ্জ তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম মূল্যসূচক বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশনের (এফএও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটা জানানো হয়। জানুয়ারিতে এফএওর ফুড প্রাইস ইনডেক্সে খাদ্যপণ্যের গড় বৈশ্বিক মূল্যসূচক ছিল ১৩৫ দশমিক ৭ পয়েন্ট, যা ডিসেম্বর’২১-এর চেয়ে ১ দশমিক ৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। জানুয়ারিতে চিনিজাত পণ্যের বৈশ্বিক দাম কমলেও বেড়েছে উদ্ভিজ্জ তেল ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম। এ সময় খাদ্যশস্য ও মাংসের দাম আগের মাসের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। সূচকটি মূলত আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য হওয়া খাদ্যপণ্যের মাসিক দাম পর্যবেক্ষণ করে।
জানুয়ারিতে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ডিসেম্বরে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বনিম্নে পৌঁছেছিল। এ সময় সব ধরনের তেলের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রফতানি সীমিতকরণ প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এ সময় আমদানি বাড়ার কারণে সয়াবিন তেলের দাম, সরবরাহ জটিলতার কারণে র্যাপসিড তেল এবং সরবরাহ জটিলতা ও আমদানি চাহিদা বাড়ার কারণে সূর্যমূখী তেলের দাম বেড়ছে।
জানুয়ারিতে এফএওর ডেইরি প্রাইস ইনডেক্স বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এতে টানা পাঁচ মাসের মতো দুগ্ধপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ননিযুক্ত গুঁড়া দুধ ও মাখনের মূল্যবৃদ্ধি দুগ্ধজাত পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে বড় প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া পশ্চিম ইউরোপ থেকে রফতানি সীমিতকরণ এবং ওশেনিয়া অঞ্চলে প্রত্যাশার চেয়ে কম উৎপাদন দুগ্ধজাত পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহকে সীমিত করেছে। পাশাপাশি কভিড-১৯-এর কারণে শ্রমিক সংকট থাকায় প্রক্রিয়াজাত ও পরিবহনে বিলম্বও দাম বাড়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে।
এফএওর সিরিয়াল প্রাইস ইনডেক্স সামান্য বেড়েছে। জানুয়ারিতে এর আগের মাসের তুলনায় খাদ্যশস্যের দাম বেড়েছে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ। এ সময়ে খাদ্যশস্যের মূল্যসূচক ছিল ১৪০ দশমিক ৬ পয়েন্ট, যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেশি। জানুয়ারিতে গমের দাম কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ও আর্জেন্টিনায় বিপুল আকারে ফলন হওয়ায় এমনটা দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে ভুট্টার রফতানি মূল্য বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ, দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলে ক্রমাগত খরা পরিস্থিতির কারণে এমনটা হয়েছে। পাশাপাশি এ মাসে চালের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ, নিম্ন ফলন ও এশিয়ান ক্রেতাদের দ্বারা স্থিতিশীল ক্রয় খাদ্যশস্যটির মূল্যবৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।
এফএওর মাংসের মূল্যসূচক জানুয়ারিতে কিছুটা বেড়েছে। এ সময় মাংসজাতীয় পণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ছিল ১১২ দশমিক ৬ পয়েন্ট, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বা ১৬ দশমিক ৬ পয়েন্ট বেশি। এ সময় আমদানি চাহিদার বিপরীতে রফতানির পরিমাণ কমায় গরুর মাংসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে আমদানির বিপরীতে রফতানি সরবরাহ শক্তিশালী হওয়ায় ডিম ও মুরগির মাংসের দাম কিছুটা কমেছে। এ সময় বৈশ্বিক সরবরাহ কমায় শূকরের মাংসের দামও কিছুটা বেড়েছে।
প্রতিবেদনে চিনিজাত পণ্যের মূল্যসূচক কমেছে বলে দেখা যায়। জানুয়ারিতে চিনিজাত পণ্যের মূল্যসূচক ছিল ১১২ দশমিক ৮ পয়েন্ট, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম। ফলে টানা দ্বিতীয় মাস ও ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন মূল্যসূচক স্পর্শ করেছে চিনিজাত পণ্যের বৈশ্বিক দাম। এ সময় ভারত ও থাইল্যান্ডে অনুকূল আবহাওয়া ও ব্রাজিলে ইথানলের দাম কমার ফলে চিনিজাত পণ্যের দাম কমেছে বলে দেখা যায়।










