বছরের শেষ তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হারে। বৃহস্পতিবার দেশটির বাণিজ্য বিভাগের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়, যা আগের অনুমানকৃত ২ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম।
মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে বেশ কয়েক দফা সুদের হার বাড়ায় ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। তবে ফেডের ধারাবাহিক সুদের হার বৃদ্ধির ফলে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, তার তুলনায় অর্থনীতিতে প্রভাবে মাত্রা অনেক বেশি হবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ণয়ের বিভিন্ন মাপদণ্ড যেমন চাকরির প্রতিবেদন কিংবা খুচরা বিক্রয়বিষয়ক তথ্যগুলো ইঙ্গিত করে যে উচ্চ সুদের হার বেঁধে দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডের চেষ্টা মূলত প্রবৃদ্ধির গতি কমিয়ে দিয়েছে। ফেড বরং এক্ষেত্রে অন্য উদ্যোগও নিতে পারত।
চলতি মাসের শুরুতে সুদহার এক-চতুর্থাংশ পয়েন্ট বাড়িয়েছে ফেড। প্রায় এক বছরের মধ্যে যা এটির বেঞ্চমার্ক হারের সবচেয়ে কম বৃদ্ধি। তবে যারা মনে করছেন ভবিষ্যতে ফেডকে সুদহার বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ধীর গতি অনুসরণ করতে হবে, তাদের জন্য এটি ভালো খবর বলে মনে হলেও প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি বিষয়ক কিছু খারাপ খবরও ছিল।
ব্যক্তিগত খরচ পরিমাপক সূচক অনুসারে (পিসিই) মূল্য সূচক তৃতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে এটি ৩ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়েছিল। এছাড়া পিসিই ডিফ্লেটার প্রতিবেদন অনুসারে ভোক্তা ব্যয়ের পরিমাণ আগের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
প্রতিবেদনে সবচেয়ে বড় খবরটি ছিল মূল্যস্ফীতি নিয়ে। ফেড ঠিক যেমনটা ভেবেছিল তার চেয়ে এটা ছিল অনেকটা বেশি। পিএনসি প্রধান অর্থনীতিবিদ গাস ফাউচার বলেন, চতুর্থ প্রান্তিকে মূল্যস্ফীতি হার হ্রাসে ফেডের সুদহার সংশোধন নিকটবর্তী মেয়াদে এটিকে আরো বাড়িয়ে দেয়। এর মানে হচ্ছে, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে উচ্চ হারের প্রভাব থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে হবে।
পিএনসির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত বছরের শুরু থেকে ফেডের সুদের হারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ২০২৩ সালে দেশটিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে শ্রমবাজারের শক্তি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যালান্স শিট এবং একটি সুষম ভারসাম্যপূর্ণ হাউজিং বাজারের কারণে মন্দাটি হালকা হওয়া উচিত বলে মনে করেন ফাউচার ।
তিনি আরো বলেন, ভোক্তা ব্যয় হ্রাস ও নিম্নমুখী রফতানির কারণে সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। তবে পিসিই মূল্যসূচক এবং ডিফ্লেটার উভয়ই আগের প্রান্তিকের তুলনায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। পিসিই মূল্যসূচক গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছে, যেখানে পিসিই ডিফ্লেটার দ্বিতীয় প্রান্তিকে হয় ৯ শতাংশ।
তবে প্রতিবেদনগুলোতে তুলে ধরা হয়, এক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে ফেডের আক্রমণাত্মক সুদের হার। যদিও দেশটিতে বেকারত্ব বিমা দাবির পরিমাণ কমে এসেছে। প্রযুক্তি, মিডিয়া এবং বন্ধকী শিল্পের মতো কিছু সেক্টরে ছাঁটাই সত্ত্বেও মার্কিন শ্রমবাজার শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে।










