আগামীতে কানাডায় জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শ্লথ হয়ে আসার পূর্বাভাস মিলেছে। তা সত্ত্বেও দেশটিতে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন রেকর্ড বাড়বে। কানাডা এনার্জি রেগুলেটরের (সিইআর) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটিতে জ্বালানি তেল উত্তোলন ৫০ শতাংশ বাড়বে। একই সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন বাড়বে ৩০ শতাংশ। খবর সিবিসি।
সিইআরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে কানাডার কূপগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ৭০ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন সম্ভব হবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। এদিকে এ ২০ বছরের মধ্যে দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের উত্তোলন বেড়ে দৈনিক গড়ে দুই হাজার কোটি ঘনফুটে উন্নীত হতে পারে, যা বর্তমানের তুলনায় ৩০ শতাংশের মতো বেশি। তবে এ সময় দেশটিতে মাথাপিছু জ্বালানি চাহিদা কমবে ১৫ শতাংশের বেশি।
এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখবে দেশটির নতুন ও উন্নত প্রযুক্তি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জলবায়ু নীতি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বিষয়গুলো আগামী দুই দশকে কানাডার জ্বালানি ব্যবহার ও উৎপাদন প্রবণতায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটাবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময় দেশটিতে কয়লার ব্যবহার প্রায় ৭৫ শতাংশ কমতে পারে। দেশটির কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দখল নেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি, যা বিদ্যুৎ খাতে কার্বন-ডাই অক্সাইড নির্গমনের মাত্রা কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে।
সিইআরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে বায়ু ও সৌরশক্তির উৎপাদন দ্বিগুণের বেশি বাড়বে। তবে ২০৪০ সাল নাগাদ দেশটির নবায়নযোগ্য শক্তির সর্বোচ্চ হিস্যা থাকবে হাইড্রোইলেকট্রিকের (পানিবিদ্যুৎ) দখলে।
প্রতিবেদনে আরো জানানো হয়, এলএনজির (তরলায়িত প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানি বৃদ্ধির সম্ভাবনাই এ সময়ে কানাডার প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। এদিকে জ্বালানি তেলের উত্তোলন বাড়াতে দেশটিতে বিদ্যমান স্যান্ড অয়েল প্রকল্পের নতুন পর্যায়গুলো প্রভাব রাখবে।









