মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পণ্যটির উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বাড়তি রফতানির বিপরীতে নিম্নমুখী উৎপাদন পণ্যটির মজুদকে চাপের মুখে ফেলেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
মালয়েশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক। দেশটির পামচাষীরা জানিয়েছেন, জানুয়ারিতে পাম উৎপাদন কমেছে। ফলে জানুয়ারিতে পাম অয়েল উৎপাদনও ছিল নিম্নমুখী। এতে রফতানিযোগ্য পাম অয়েলের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতে পাম অয়েলের মজুদ কমে যাওয়ায় দেশটির ক্রেতারা ফের আমদানি বাড়াচ্ছেন। ফলে মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের রফতানি চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। কিন্তু উৎপাদন কম হওয়ায় মজুদ থেকে রফতানি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
বাজার পর্যবেক্ষকদের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ কমেছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৪০ হাজার টনে, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ কম। পণ্যটির উৎপাদন ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে নেমেছে ১৩ লাখ ৭০ হাজার টনে। মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ড (এমপিওবি) মজুদ ও উৎপাদনসংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করবে ১৩ ফেব্রুয়ারি। এমপিওবির মহাপরিচালক আহমেদ পারভেজ গুলাম কাদির জানান, বিশ্বের শীর্ষ পাম অয়েল উৎপাদক দেশটিতে চলতি বছর মজুদ প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টনে নামতে পারে, গত বছর যা ছিল ২২ লাখ ৯০ হাজার টন।
তিনি আরো জানান, ২০২৩ সালে ১ কোটি ৫১ লাখ টন পাম অয়েল রফতানি করেছিল মালয়েশিয়া। এ বছর তা কিছুটা বেড়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। প্রতি টনের মূল্য ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ রিঙ্গিতের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২৩ সালে মিশ্র প্রবণতায় ছিল মালয়েশিয়ার পাম অয়েল খাত। তবে এ বছর পরিস্থিতি অনেকটাই ইতিবাচক থাকবে। প্রধান প্রধান সব নির্দেশকের উন্নতি হয়েছে।
অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম কমার প্রভাবে টানা তিনদিন নিম্নমুখী প্রবণতায় ছিল মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বাজার। তবে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়ায় গতকাল দাম কিছুটা বেড়েছে। বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৮ রিঙ্গিতে (৮১৩ ডলার ৬৮ সেন্ট), যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে পাম অয়েলের দাম ১ দশমিক ৫২ শতাংশ বেড়েছে।










