যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সাতটি বেসিন থেকে শেল অয়েল (পাথরের খাঁজ থেকে উত্তোলিত তেল) উত্তোলন আগামী মাসে রেকর্ড সর্বোচ্চে উন্নীত হতে পারে। দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেল অয়েল উত্তোলন দৈনিক ৪১ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ৯৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে।
যুক্তরাষ্ট্রের শেল অয়েল বেসিনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় টেক্সাস ও নিউ মেক্সিকোর পারমিয়ান বেসিন। এ বেসিন থেকে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন দৈনিক ১৫ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে রেকর্ড ৫৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে।
উত্তর ডাকোটা ও মনটানা অঞ্চলে অবস্থিত বাকেন বেসিনে উত্তোলন প্রতিদিন ১৩ হাজার ব্যারেল করে বাড়তে পারে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে, যা ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে দক্ষিণ টেক্সাস ঈগল ফোর্ড থেকে উত্তোলন প্রতিদিন ২ হাজার ব্যারেল করে বেড়ে দৈনিক ১১ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে। গত বছরের নভেম্বরের পর এটি সর্বোচ্চ উত্তোলন।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের পাশাপাশি পাথরের খাঁজ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনও ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইআইএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, বৃহৎ বেসিনগুলো থেকে গ্যাস উত্তোলন প্রায় দৈনিক ৩০ কোটি ঘনফুট করে বাড়তে পারে। দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে রেকর্ড ৯ হাজার ৭২০ কোটি ঘনফুটে। অর্থাৎ জুনে চলতি মাসের চেয়েও বেশি উত্তোলন হবে। চলতি মাসে উত্তোলনের পরিমাণ ধরা হয়েছে দৈনিক ৯ হাজার ৭০০ কোটি ঘনফুট।
শেল গ্যাসের সবচেয়ে বড় বেসিন অ্যাপালাসিয়া অবস্থিত পেনসিলভানিয়া, ওহাইও ও পশ্চিম ভার্জিনিয়ায়। এ বেসিনে আগামী মাসে দৈনিক উত্তোলন দাঁড়াতে পারে ৩ হাজার ৫৩০ কোটি ঘনফুটে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের পর এটিই সর্বোচ্চ উত্তোলন। ওই সময় উত্তোলনের পরিমাণ ছিল দৈনিক ৩ হাজার ৬০০ কোটি ঘনফুট।
দুই বছর ধরে অ্যাপালাসিয়া বেসিনে খনন করা কূপগুলো থেকে তুলনামূলক কম গ্যাস পাচ্ছেন খননকারীরা। এর পরও সেখান থেকে দৈনিক উত্তোলন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পারমিয়ান বেসিনে গ্যাস উত্তোলন দাঁড়াবে ২ হাজার ২৬০ কোটি ঘনফুটে। অন্যদিকে টেক্সাস, লুইজিয়ানা ও আরকানসাসে অবস্থিত হেন্সভিল বেসিনে দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৯০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ এ দুই বেসিনেও আগামী মাসে রেকর্ড পরিমাণ উত্তোলন হবে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ ব্যাপক হারে বেড়েছে। দেশটির আমদানিও তুলনামূলক কম। এপ্রিলে চীনে রফতানিও ছিল সীমিত। এসব বিষয় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদাকে চাপের মুখে ফেলছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে ওপেক। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হলো। চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল বা ২ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে। এর আগের মাসের প্রতিবেদনেও একই হারে বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল ওপেক।










