বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ও রফতানিতে দীর্ঘদিন ধরেই একক আধিপত্য বজায় রয়েছে চীনের। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন ও রফতানিতে রীতিমতো ধস নামে। এরই মধ্যে দেশটি মহামারী নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও লং স্টিলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের কারণে চীনের ইস্পাত রফতানি বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর সিনহুয়া ও এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের পরিশোধিত ইস্পাত রফতানির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৫ কেটি ৫০ লাখ টনের মধ্যে থাকবে। আর ২০২১ সালে শিল্প ধাতুটির রফতানি আরো বেড়ে ৬ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৭ কোটি ৫০ লাখ টনের মধ্যে থাকবে।

প্ল্যাটসের অনুমান, ২০২১ সালে চীনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হবে ১০৬ কোটি ৮০ লাখ টন। এটি ২০২০ সালে আনুমানিক ১০৪ কোটি ৫০ লাখ টন থেকে বাড়বে। ফলে চীনের অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের তুলনায় রফতানির অনুপাত ২০২০ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া লং ইস্পাতের রফতানি ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো ২০২১ সালে ফ্ল্যাট স্টিলের সমপর্যায়ে কিংবা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবরে মোট ২ কোটি ৬৯ লাখ টন ফ্ল্যাট স্টিল রফতানি হয়েছে। এ সংখ্যা লং স্টিল রফতানির তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি।

অভ্যন্তরীণ মোট উৎপাদনের ৩৫ শতাংশেরও বেশি ইস্পাত ব্যবহার হয় চীনের অবকাঠামো ও শিল্প খাতে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ডেভেলপারদের জন্য অর্থায়ন কমিয়ে দেয়ায় নতুন বছরে এটি ধীর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ইস্পাতের দামেও চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষত আগামী বছর যখন চীনের ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বাড়তে থাকবে।

সূত্র বলছে, এইচ-১ প্যাকেজে আর্থিক প্রণোদনা না থাকলে কভিড-১৯-এর প্রভাবে চীনের সম্পত্তি খাতে নিম্নগামী প্রবণতা থাকবে। আর এটির প্রভাব গিয়ে পড়বে ইস্পাতের ব্যবহারে। অন্যদিকে ইস্পাত ব্যবহার করা আরেকটি বড় খাত যাত্রীবাহী যানবাহনের অভ্যন্তরীণ বিক্রি ২০২১ সালে দুই অংকের প্রবৃদ্ধি দেখবে। যদিও চলতি বছর মহামারীর কারণে এটি নিম্নগামী ছিল।