আন্তর্জাতিক বাজারে গত জুনে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ। কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যেও সরবরাহ বাড়ায় পণ্যটির দাম স্থিতিশীল। সম্প্রতি মাসভিত্তিক জ্বালানি তেলের বাজার প্রতিবেদনে সরবরাহ বাড়ার তথ্য দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।

সংস্থাটি বলছে, পশ্চিমা দেশগুলো একের পর এক নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ায় জ্বালানি তেল উত্তোলন ও সরবরাহ স্থিতিশীল। এটি বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। পাশাপাশি যেসব দেশে উত্তোলন কার্যক্রম জটিলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেসব দেশে সৃষ্ট ঘাটতি লাঘবেও সহায়তা করছে রাশিয়া।

আইইএর দেয়া তথ্যানুযায়ী, গত মাসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল করে বেড়েছে। দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৯৫ লাখ ব্যারেলে।

আইইএর বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণজনিত কারণে জুনে কাজাখস্তানসহ ক্ষুদ্র উত্তোলক দেশগুলোয় জ্বালানি তেলের প্রবাহ ব্যাপক কমেছে। এসব দেশের কারণে সরবরাহে ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়ায় জ্বালানি তেলের প্রবাহ অবিশ্বাস্য রকম বেড়েছে, যা প্রত্যাশিত ঘাটতিতে ভারসাম্য এনেছে।

তথ্য বলছে, গত মাসে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বেড়ে দৈনিক ২ কোটি ৮৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক ১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে বেড়েছে উত্তোলন।

একই সময় ওপেকের প্রাকৃতিক গ্যাস লিকুইড উত্তোলন দৈনিক ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলের মাধ্যমে রেকর্ড ছুঁয়েছে। এতে জোটটির মোট জ্বালানি তেল উত্তোলন বেড়ে দৈনিক ৩ কোটি ৪১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিক নন-ওপেক দেশগুলোর উত্তোলন বেড়ে দৈনিক ৬ কোটি ৪৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।

আইইএর পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের জুন-ডিসেম্বর পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক উত্তোলন দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল করে বাড়বে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াবে দৈনিক ১০ কোটি ১৩ লাখ ব্যারেলে। এ সময় ওপেক প্লাস থেকে সরবরাহ দৈনিক ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ বছরের দ্বিতীয়ার্ধে রাশিয়ার উত্তোলন কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ সময় লিবিয়া, কাজাখস্তান ও উপসাগরীয় উত্তোলক দেশগুলোর উত্তোলন পরিস্থিতিতে ভারসাম্য নিয়ে আসবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ওপেক প্লাসবহির্ভূত দেশগুলোর দৈনিক উত্তোলন দাঁড়াবে ১৪ লাখ ব্যারেলে। এসব দেশের উত্তোলন বাড়াতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে চলতি বছরের জন্য জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রাক্কলন নতুন করে পর্যালোচনা করেছে। এতে চাহিদা পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। গড় চাহিদার পরিমাণ ধরা হয়েছে দৈনিক ৯ কোটি ৯২ লাখ ব্যারেল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস এবং জ্বালানি পণ্যের উচ্চমূল্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় নিম্নমুখী চাপ তৈরি করেছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং চীনে বাজার পুনরুদ্ধার পরিস্থিতিতে আংশিক ভারসাম্য আনতে পারে।

আইইএর পূর্বাভাস বলছে, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ দৈনিক ২১ লাখ ব্যারেল করে বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে নন-ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো প্রধান ভূমিকা পালন করবে।