ট্রেন চালকদের ধর্মঘটের কারণে শঙ্কা দেখা দিয়েছে জার্মানির অর্থনীতি নিয়ে। বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন, বুধবার শুরু হওয়া এ ধর্মঘটের কারণে হাজার হাজার যাত্রীর জনদুর্ভোগ বাড়বে। সেই সঙ্গে দেশটি প্রায় ১১০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া। 

জার্মানির প্রধান পরিবহনমন্ত্রী ভলকার উইসিং ছয়দিনের এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত দেশটির শিল্পের জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন। লোহিত সাগরের মাধ্যমে শিপিংয়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে এর মধ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে এ ধর্মঘট সরবরাহ চেইনের ওপর আরো চাপ সৃষ্টি করছে। রেল কোম্পানি ডয়চে বানের মুখপাত্র আনজা ব্রোকার বলেন, ‘‌এ দীর্ঘ পদক্ষেপ জার্মান অর্থনীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। এ পরিষেবার অধীনে পণ্যবাহী যানবাহন, যাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শোধনাগারের সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ডিবি কার্গো সাপ্লাই চেইন সুরক্ষিত করার জন্য সবকিছু করবে, তবে এটি স্পষ্ট যে এ ধর্মঘটের কারণে কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।’ 

জিডিএল ইউনিয়নের ডাকা এ ধর্মঘটে বুধবার ২টা থেকে সোমবার পর্যন্ত যাত্রীবাহী পরিবহন বন্ধ থাকবে। তবে মালবাহী ট্রেনগুলোর ধর্মঘট মঙ্গলবার শুরু হয়েছে। শুধু দূরপাল্লার ট্রেনই নয়, শহরের ভেতর চলাচল করা যানবাহনগুলোও ডয়চে বান পরিচালনা করে। এ ধর্মঘটের কারণে এ যানবাহনগুলোও প্রভাবিত হচ্ছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে তারা। এটি দেশের রাষ্ট্র ও শিল্পের জন্য বিশাল ব্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করছে। জার্মানের অর্থনীতিতে বর্তমানে মন্দা ভাব চলছে। 

ডয়চে বান ধারণা করছে, প্রতিটি ধর্মঘটে দিনে লাখ লাখ ডলারের ক্ষতি হবে। কিন্তু শিল্প বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরো বড় হবে। কোলোনের ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিক রিসার্চের মাইকেল গ্রোমলিং জানান, দেশব্যাপী ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলে অর্থনীতিতে প্রতিদিন ১০ কোটি ইউরো পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে। 

হুথি হামলার কারণে সামুদ্রিক মালবাহী   জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক পরিবহনের সমস্যাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি জানান, মোটামুটি অনুমান থেকে ধারণা করা যায়, এ ধর্মঘটের কারণে ১০০ কোটি ইউরোর মতো লোকসান হতে পারে। 

তবে ধর্মঘটের সময় আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উইসিং জিডিএল ইউনিয়নের নিন্দা করেন। পরিবহনমন্ত্রী জানান, ‘বিষয়টি সমাধানের জন্য কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে ইউনিয়ন বলেছে যে তারা ডয়েচে বাহনের ‘তৃতীয় ও কথিতভাবে উন্নত প্রস্তাব’ প্রত্যাখ্যান করেছে, কারণ তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ চুক্তিতে পৌঁছানোর কোনো আগ্রহ দেখেনি।