দক্ষিণ কোরিয়া তার আবাসন বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী বিদেশী ব্যক্তিদের ওপর বিধিনিষেধ কঠোর করেছে। অফিশিয়ালরা চলতি সপ্তাহে জানান, দেশটিতে স্থায়ী আবাসিক ঠিকানা নেই এমন বিদেশীদের এখন থেকে তাদের সম্পত্তি বিনিয়োগ তদারকির জন্য একজন স্থানীয় ব্যবস্থাপক নিয়োগ করতে হবে। এছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যারা ৯০ দিনের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাস করেছে, তাদের এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হবে। তবে তাদের অবশ্যই স্থানীয় ঠিকানা যাচাইয়ের নথি সরবরাহ করতে হবে। খবর দ্য কোরিয়া হেরাল্ড।

ভূমি মন্ত্রণালয় এ পরিবর্তন এনেছে বিদেশীদের আবাসন খাতে অনুমানমূলক বিনিয়োগ বন্ধ করার জন্য। ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ কোরিয়া আবাসন খাতে বিদেশী বিনিয়োগ নিষিদ্ধ করেনি, তবে এ বিধিনিষেধগত পরিবর্তনগুলো জাতীয় বিনিয়োগ ও তথ্য সংগ্রহবিষয়ক সরকারের তদারকি বাড়ানোর অংশ হিসেবে করা হয়েছে। এর আগে দীর্ঘমেয়াদি বাসিন্দাদের বাড়ির ঠিকানা যাচাই করার জন্য ডকুমেন্টেশন জমা দেয়ার প্রয়োজন ছিল না। পরিবর্তনটি স্থানীয় ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বৈষম্য কমাতে করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ভূমি মন্ত্রণালয় প্রাসঙ্গিক স্বাস্থ্য বীমা নথিসহ দক্ষিণ কোরিয়া থেকে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আসা ও যাওয়ার সার্টিফিকেট পদ্ধতিও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি রেকর্ডে ভুল ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধিত বিনিয়োগকারীদের অনুমানমূলক বিনিয়োগের তদন্তের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হওয়ায় এ পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে।

২০২১ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৮১ হাজার ৬২৬ জন বিদেশী আবাসিক বাড়ির মালিক, যা দেশটির মোট আবাসনের দশমিক ৪ শতাংশ। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবাসিক বাড়ির হার চীনা নাগরিকদের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ, মার্কিন নাগরিকদের ২১ দশমিক ৯ শতাংশ, কানাডিয়ানদের ৬ শতাংশ, তাইওয়ান নাগরিকদের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ ও অস্ট্রেলিয়ানদের ১ দশমিক ৮ শতাংশ করে অংশ রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমি পলিসি ব্যুরোর মহাপরিচালক ন্যাম ইয়ং-উ আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, পরিবর্তনগুলো স্থানীয় আবাসন বাজারে অনুমানমূলক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরো কার্যকরী তদন্ত ও পরিচালনা কার্যক্রমকে সহজ করবে। পরিবর্তনগুলো বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দায়িত্বশীল অনুশীলন নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় ভারসাম্যপূর্ণ আবাসন খাতে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করবে।

আবাসন খাত ধনী কোরিয়ানদের জন্য একটি আকর্ষণীয় বিনিয়োগের সুযোগ। যদিও সম্প্রতি চালানো এক জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৪ শতাংশ ধনী ব্যক্তি চলতি বছর আবাসন খাতের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করে। তবে ৩২ শতাংশ এখনো আবাসন খাতকে সেরা বিনিয়োগ বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া ৩৭ শতাংশ বলেছে, ২০২৫ সালে আবাসন বাজার পুনরুজ্জীবিত হবে। বাকি ২৬ ও ২৪ শতাংশ যথাক্রমে ২০২৪ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ও ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে পুনরুদ্ধারের পূর্বাভাস দিয়েছে।