জুনে চীনে পরিশোধিত তামা উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেশকিছু বিগলন প্রতিষ্ঠান এ সময় বন্ধ থাকায় উৎপাদনে খুব বেশি পরিবর্তন দেখা যায়নি। রাষ্ট্রমালিকানাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানটেইক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

অ্যানটেইক ২২টি বিগলন প্রতিষ্ঠানের ওপর জরিপ চালিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান চীনের মোট উৎপাদন সক্ষমতার ৮৮ শতাংশ তামা উৎপাদন করে। জরিপে দেখা গিয়েছে, গত মাসে দেশটিতে পরিশোধিত তামা উৎপাদন বেড়েছে মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৭৭ হাজার টনে। এর আগের মাসে দেশটিতে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬০০ টন তামা উৎপাদন হয়েছিল।

গত মাসে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ঝিংজিয়াং প্রদেশের পাশাপাশি জিঝিয়াং ও অ্যানহুই প্রদেশের বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলোয় পরিকল্পিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। ফলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব বিগলন কেন্দ্রে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ ছিল।

এদিকে উৎপাদনে লক্ষণীয় পরিবর্তন না এলেও ধাতুটির দাম অব্যাহত কমছে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ধাতুটির দাম কমে ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে যায়। এর কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় ধাতব পণ্যের চাহিদায় ধস নেমেছে।

তবে এমন পরিস্থিতির মধ্যেও কিছু বিগলন কেন্দ্র উৎপাদন বাড়িয়েছে। তাদের প্রত্যাশা করোনাভাইরাস মহামারীজনিত বিধিনিষেধ ও লকডাউন শিথিল হতে থাকায় মুনাফা বাড়বে।

অ্যানটেইকের দেয়া তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) চীনের শীর্ষ বিগলন কেন্দ্রগুলো সব মিলিয়ে ৪৬ লাখ ২০ হাজার টন পরিশোধিত তামা উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ২ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়েছে।

অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কায় বিশ্বব্যাপী শিল্প উৎপাদনে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তামার চাহিদা অব্যাহত কমছে। চাহিদা কমার কারণে ধাতুটির আমদানিও কমিয়েছে চীন। চাহিদা না থাকায় দেশটির প্রধান প্রধান বাজারে বেড়েছে মজুদ।

অ্যানটেইকের প্রত্যাশা, চলতি মাসে দেশটিতে পরিশোধিত তামা উৎপাদন বেড়ে ৮ লাখ ৩ হাজার টনে উন্নীত হবে। এ সময় সাশ্রয়ী পরিশোধন চার্জ ও সালফিউরিক অ্যাসিডের ঊর্ধ্বমুখী দাম বিগলন কেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত করবে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনের শীর্ষ তামা বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলো তামার কনসেনট্রেটের জন্য তাদের ফ্লোর ট্রিটমেন্ট ও পরিশোধন চার্জ নির্ধারণ করেছে টনপ্রতি ৮০ ডলার ও পাউন্ডপ্রতি ৮০ সেন্ট।