উচ্চ সুদহারের কারণে বিপাকে পড়েছে বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। ফলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। যার প্রভাব পড়েছে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারদরে। উচ্চ সুদহারে ঋণসংক্রান্ত ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসঅ্যান্ডপি ৫০০-ভুক্ত কোম্পানিগুলোর গড় শেয়ারপ্রতি ইপিএস আয় ছিল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের তুলনায় কম। শেয়ারপ্রতি আয় গড়ে কমেছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এখন এরই প্রভাব দেখা যাচ্ছে পুঁজিবাজারে। এছাড়া ঋণ ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতির কারণেও বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। হারভেস্ট ভোলাটিলিটি ম্যানেজমেন্টের বাণিজ্য ও গবেষণা প্রধান মাইক জিগমন্ট বলেন, ‘‌বিনিয়োগকারীরা সুদহার বেশি থাকার কারণে উদ্বিগ্ন।’

জাপানের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নমুরা গ্রুপের বিশ্লেষক চার্লি ম্যাক ইলিগট জানিয়েছেন, ঋণসংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বড় কোম্পানিগুলোও শেয়ার মূল্যের পতনের হাত থেকে বাদ যায়নি। বুধবার অ্যালফাবেটের প্রতি শেয়ারে আয় কমেছে ৯ শতাংশ। ২০২০ সালের মার্চের পর এটিই ছিল প্রতিষ্ঠানটির জন্য সবচেয়ে নেতিবাচক মাস।

কয়েকটি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানের আয় তাদের পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ফ্রান্সের পেমেন্ট গ্রুপ ওয়ার্ল্ডলাইনের শেয়ারদর চলতি সপ্তাহে ৬০ শতাংশ কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি নিট আয়ের পূর্বাভাস কমানোর পর পরই পুঁজিবাজারে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারদর কমে যায়। 

কনজিউমার ক্রেডিট প্রতিষ্ঠান ইকুইফ্যাক্স এবং ট্রান্স ইউনিয়ন জানিয়েছে, ভোক্তাদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। এটা বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে অনেকটাই শাস্তির মতো। আর পেছনে ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চ সুদহার, যার কারণে বেড়ে যাচ্ছে তাদের ঋণের পরিমাণ। এ কারণেই ব্যাংক অব ইংল্যান্ড গত আগস্টে ঋণখেলাপির ব্যাপারে সতর্ক করেছিল। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১১৮টি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়েছে। এ সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এমনকি এই ঋণখেলাপির সংখ্যা গত পাঁচ বছরে গড় ঋণখেলাপির সংখ্যার  চেয়েও বেশি। গোল্ডম্যান স্যাকসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শেরন বেল বলেন, ‘‌উচ্চ সুদহারের কারণে বাজার আগের চেয়ে বেশি নাজুক।’ 

সোসাইটি জেনারেলের মার্কিন প্রধান মনিশ কাবরা দাবি করেন, যেসব কোম্পানি প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে, বিনিয়োগকারীরা তাদের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠোর। কিছু বিনিয়োগকারী এখন আর ভরসা করতে পারছেন না বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পুনরুদ্ধার গতিকে তারা মাত্রাতিরিক্ত আশাবাদ বলে সতর্ক করেছে। বৈশ্বিক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স বার্নস্টেইন বলেন, ‘‌বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকা উচিত আগামী বছর কোন কোম্পানি তাদের হতাশ করতে যাচ্ছে। মুক্ত অর্থনীতির এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেই বেশকিছু অনুঘটক কাজ করছে।’