বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা কিংবা চীনে করোনা মহামারীর নতুন ঢেউয়ের ক্ষত—এমন নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না বৈশ্বিক অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন খাত। প্রতি মাসেই উল্লেখযোগ্য হারে উৎপাদন কমছে। এ বছরের প্রথমার্ধে বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি লাগামহীন হয়ে ওঠে। লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল, ধাতব পণ্যসহ সব ধরনের পণ্যের দাম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো বর্তমানে মুদ্রানীতি সংকোচনের পথে হাঁটছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মাত্রায় সুদহার বাড়ানো হয়েছে। অন্যান্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সুদহার বাড়াচ্ছে। এতে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা তীব্র হচ্ছে। আর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে অপরিশোধিত ইস্পাতের চাহিদায়।
ওয়ার্ল্ড স্টিল প্রতি মাসেই বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৬৪টি দেশের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৮৫ শতাংশই আসে এসব দেশ থেকে।
চলতি মাসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছরের প্রধমার্ধে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯৪ কোটি ৯৪ লাখ টনে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
এদিকে গত মাসেও উৎপাদন ছিল বরাবরের মতোই নিম্নমুখী। এ সময় সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৮১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৫ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা ১২ মাসের মতো উৎপাদন কমার ঘটনা ঘটেছে।
বৈশ্বিক উৎপাদনের সিংহভাগই আসে এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশ থেকে। এ অঞ্চল এমনকি বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ চীন। বৈশ্বিক উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে দেশটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর নতুন ঢেউয়ের কারণে কঠোর লকডাউনের মধ্যে পড়ে চীন। দেশটির সরকার জিরো কভিড নীতি গ্রহণ করে। এ পরিস্থিতিতে বেশির ভাগ বিগলন কেন্দ্রের কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়ে। তার ওপর কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যও উৎপাদন কমাতে সহায়তা করেছে।
চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনে ৫২ কোটি ৬৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। জুনে দেশটিতে ৯ কোটি ৭ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কম।
অন্যদিকে এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে বছরের প্রধমার্ধে উৎপাদন হয়েছে ৭০ কোটি ১৪ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। গত মাসে এ অঞ্চলে ১১ কোটি ৪৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ কম।










