বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ কাজুবাদাম
ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে ভারত। প্রতি বছর দেশটিতে তিন লাখ
টনের বেশি কাজুবাদাম ব্যবহার হয়। পাশাপাশি উৎপাদন ও রফতানিতেও অন্যতম শীর্ষ
অবস্থানে রয়েছে দেশটি। কেবল কাজুবাদাম প্রক্রিয়াকরণ খাতে দেশটির ১৫ লাখ শ্রমিক
জড়িত, যার অধিকাংশ নারী। সম্প্রতি দেশটির বাজারে পণ্যটির আমদানি বেড়েছে।
অভ্যন্তরীণ বাজারের তুলনায় কম দামে দেশটিতে কাজুবাদামের এ সরবরাহ বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত
হচ্ছে এ খাত। এ অবস্থায় কাজুবাদাম আমদানিতে অ্যান্টি-ডাম্পিং চালুর
সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। খবর ইকোনমিক টাইমস।
ভারতের কাজুবাদাম রফতানি উন্নয়ন কাউন্সিলের (সিইপিসিআই) চেয়ারম্যান আরকে ভোদেস জানান, প্রতি মাসে ৫০০-৬০০ টন আধা প্রক্রিয়াকরণ বা পূর্ণ প্রক্রিয়াকরণ কাজুবাদাম ভারতের বাজারে প্রবেশ করছে, যা দেশটির প্রক্রিয়াকরণ খাতকে মারাত্মকভাবে হুমকিতে ফেলেছে।
এ অবস্থায় দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
থেকে সিইপিসিআইকে ডিরেক্টের জেনারেল অব ট্রেড রেমিডিস (ডিজিটিআর) বরাবর
অ্যান্টি ডাম্পিং আরোপ করার জন্য আবেদন করার কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে খুব তাড়াতাড়ি
ডিজিটিআরের সঙ্গে আলোচনা করবেন সিইপিসিআইয়ের কর্মকর্তারা।
আরকে ভোদেস জানান, আফ্রিকার
দেশগুলো থেকে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ভারতের বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাজুবাদাম
প্রবেশ করছে। এসব দেশ পণ্যটির রফতানিতে প্রণোদনা ও শুল্ক কমিয়ে দেয়ায় কম দামে
ভারতের বাজারে কাজুবাদাম সরবরাহ করতে পারছেন রফতানিকারকরা। ফলে ভারতের বাজারে উৎপাদন
ও প্রক্রিয়াকরণ করা কাজু বাদামের ৫০ শতাংশ দামে পণ্যটি আমদানি করতে সক্ষম হচ্ছেন
ব্যবসায়ীরা।
এ অবস্থায় ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে
প্রভাব ফেলেছে আমদানীকৃত এসব কাজুবাদাম। এতে একদিকে যেমন দেশটিতে পণ্যটির বিক্রি
কমেছে, অন্যদিকে কমেছে দামও। সাধারণ দীপাবলিতে অন্য সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ
কাজুবাদাম বিক্রি হলেও এবার বিক্রি বেড়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। আমদানি বৃদ্ধির ফলে
দীপাবলি পরবর্তী পণ্যটির দাম কমে কেজিপ্রতি দাঁড়িয়েছে ৬২৫ রুপিতে। যেখানে আগে
প্রতি কেজির দাম ছিল ৭৫০ রুপি।
তবে রফতানি মূল্যের চেয়েও এখনো দেশটির
বাজারে বেশি দামে কাজুবাদাম বিক্রি হচ্ছে। যে কারণে দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানি
বাড়লেও আয় কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল-সেপ্টম্বর পর্যন্ত দেশটি থেকে কাজুবাদামের রফতানি ৭ শতাংশ বেড়ে ৩২
হাজার ৮৪৫ টনে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে দেশটির আয় ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার
৮৫৯ রুপিতে।









