যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমানোর জন্য মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ার জেরোম পাওয়েল। গত সোমবার ইকোনমিক ক্লাব অব ওয়াশিংটন ডিসিতে বক্তৃতা করার সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক কেন তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য অপেক্ষা করবে না তা ব্যাখ্যা করার জন্য পাওয়েল বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের নীতিগত ব্যাপারে ‘দীর্ঘ ও পরিবর্তনশীল ল্যাগ’ নিয়ে কাজ করে। খবর আল জাজিরা।
জেরোম পাওয়েল বলেন, ‘আপনি যদি মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তবে আপনি সম্ভবত খুব বেশি অপেক্ষা করেছেন। কারণ যে কড়াকড়ি হচ্ছে তার প্রভাবে সম্ভবত মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের নিচে নামবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন আত্মবিশ্বাসী হতে চাইছে যে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের পর্যায়ে আসবে। সেই আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে মূল্যস্ফীতির অনুকূল ডাটা, যা ইদানীং আমরা কিছুটা পাচ্ছি।’
যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক মন্দা কোনো সম্ভাব্য ব্যাপার বলে মনে করেন না পাওয়েল। জুনের ভোক্তা মূল্য সূচকের প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবারই প্রথম জনসাধারণের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন পাওয়েল।
উল্লেখ্য, জুনের ভোক্তা মূল্য সূচকে ‘কুল ইনফ্লেশন’ দেখানো হয়েছে, যার অর্থ শিগগিরই সুদের হার কমার সম্ভাবনা রয়েছে। সূচকটিতে আরো বলা হয়, প্রতি মাসেই ভোগ্যপণ্য ও পরিষেবার মূল্য হ্রাস পেয়েছে।
পাওয়েল তার বক্তব্যের শুরুতে বলেছিলেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখন সুদের হার কমানো শুরু করতে পারে সে সম্পর্কে তিনি কোনো ইঙ্গিত দিতে চান না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী সভা জুলাইয়ের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিলগুলোর সুদের হারের লক্ষ্যমাত্রার সীমা বর্তমানে ৫ দশমিক ২৫ থেকে ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। কভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন শূন্য থেকে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ সীমা থেকে বেড়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছেছে। মহামারীর আগে লক্ষ্যমাত্রাটি ছিল ১ দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশের পরিসরে। ফেডারেল তহবিলের হার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমগ্র অর্থনীতিতে অর্থের ব্যয়কে প্রভাবিত করে, যেমন বন্ধকি হার। পাওয়েল মজা করে বললেন, ‘যাদের আমি চিনি না তারা সবসময় বলবে, আরে, সুদের হাড় কমাও। আজ সকালেই লিফটে কেউ বলছিল।’
তার এ মন্তব্যে গতকাল মঙ্গলবার এশিয়া-প্যাসিফিক বাজারগুলোয় মিশ্র ফল দেখা গেছে এবং রাতারাতি ওপরে উঠে গেছে ওয়াল স্ট্রিট। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ার। সেখানে চীনের মূল ভূখণ্ডের সিএসআই ৩০০ সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ।
সূচকে শীর্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্যতম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিং আন। তাদের শেয়ারগুলোর দর কমেছে ৫ শতাংশের বেশি। ভারতের বেঞ্চমার্ক নিফটি ৫০-এর শেয়ারের দর সর্বকালের সর্বোচ্চ শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
জাপানের নিক্কেই ২২৫ বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সরকারি ছুটির পর লেনদেন শুরু হওয়ায় টোপিক্স সূচক শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপানের টিডিকে করপোরেশনের শেয়ার ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৪ শতাংশ। অন্যদিকে কোসডাকের শেয়ারের দর পড়েছে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। অস্ট্রেলিয়ার এসঅ্যান্ডপি/এএসএক্স ২০০ সামান্য হ্রাস পেয়েছে।
চীনের জিডিপির সূচক গত সোমবার প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়ায় গোল্ডম্যান স্যাকস চীনের পুরো বছরের মোট দেশজ উৎপাদনের পূর্বাভাস ৫ থেক ৪ দশমিক ৯ শতাংশে নামিয়েছে। অন্যদিকে জেপি মর্গান চীনের জিডিপির পূর্বাভাস ৫ দশমিক ২ থেকে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়েছে।










