ভারত গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর খাদ্যশস্যের বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে দেশটি চাল রফতানিও বন্ধ ঘোষণা করতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। তবে দেশটির খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, আপাতত চাল রফতানি বন্ধ ঘোষণার কোনো পরিকল্পনা নেই ভারতের। কারণ দেশটিতে চালের ব্যাপক মজুদ রয়েছে।
ভারত বিশ্বের শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। দেশটির যেকোনো সিদ্ধান্তের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে চালের বৈশ্বিক বাজারে উত্থান-পতন। ভারত ১৫০টিরও বেশি দেশে চাল রফতানি করে। দেশটি রফতানিতে কোনো রকম বিধিনিষেধ আরোপ করলে বা কমিয়ে দিলে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ বিশ্বের প্রায় ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য চাল। ২০০৭ সালে ভারত চাল রফতানি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করলে আন্তর্জাতিক বাজারে শস্যটির দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছিল। ভারতের খাদ্য সচিব শুধাংসু পান্ডে বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি চালের মজুদ রয়েছে। ফলে রফতানি বন্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
বৈশ্বিক চাল ব্যবহারের দিক থেকে শীর্ষ দেশ চীনের পরই ভারতের অবস্থান। বৈশ্বিক চাল বাণিজ্যে দেশটির হিস্যা রয়েছে ৪০ শতাংশেরও বেশি। স্থানীয় বাজারে ঊর্ধ্বমুখী মজুদ ও নিম্নমুখী দামের কারণে ভারতের ব্যবসায়ীরা দুই বছর ধরেই বেশ ভালো পরিমাণ মূল্যছাড় দিয়ে আসছেন। এতে এশিয়া আফ্রিকার অনেক নিম্ন আয়ের দেশ সুবিধা পাচ্ছে। গমের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় এসব দেশ বিকল্প হিসেবে চালের ব্যবহার বাড়াচ্ছে।










