ভারত চলতি অর্থবছরে তার বেসরকারীকরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্ধেকও পূরণ করতে পারেনি। রাষ্ট্র পরিচালিত কোম্পানিগুলোর ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে পেরেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকারের প্রত্যাশিত ৫১ হাজার কোটি রুপির বিনিয়োগ প্রত্যাহার লক্ষ্যমাত্রা থেকে তারা ৩০ হাজার কোটি রুপি (৩৬০ কোটি ডলার) পিছিয়ে রয়েছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

আইডিবিআই ব্যাংক ও ইস্পাত নির্মাতা এনএমডিসি নামে দুটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রিতে বাধা রয়ে যাওয়ায় ভারত তার বিনিয়োগ প্রত্যাহার লক্ষ্যমাত্রা থেকে বঞ্চিত হবে। চলতি অর্থবছরে এ দুটি সংস্থাকে বেসরকারীকরণের মাধ্যমে ভারত ৩০ হাজার কোটি রুপি সংগ্রহের আশা করেছিল। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আইডিবিআই ব্যাংকের জন্য ক্রেতা অনুমোদনের প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় নিয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি ভারতের ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে গেছে। একই সময়ে রাজ্য নির্বাচনে রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং এনএমডিসি কর্মীরাই প্রতিষ্ঠানটিকে বেসরকারীকরণের পরিকল্পনা ব্যাহত করছে।

যদিও ভারত এখনো কিছু ছোটখাটো কোম্পানির অংশীদারত্ব বিক্রি সম্পন্ন করতে পারে। তবু সে অর্থ এখনো পুরো বছরের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম। এর মাধ্যমে ২০১৯ সাল থেকে ভারত সরকারের বার্ষিক বিনিয়োগ প্রত্যাহারের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার প্রবণতা অব্যাহত। ইস্পাত, সার, তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর শেয়ার বিক্রির প্রচেষ্টা জমির মালিকানা বিরোধ এবং শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিরোধে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সাবেক অর্থ সচিব সুভাষ চন্দ্র গ্রেগ জানান, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো বড় বেসরকারীকরণ হবে না। বেসরকারীকরণ নীতি এবং রাজনৈতিক আগ্রহের অভাবের কারণে ছয় মাসের মধ্যে বিনিয়োগ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সরকারি তথ্যানুযায়ী, শেয়ার বিক্রি থেকে মাত্র ৮ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে ভারত। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো থেকে লভ্যাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে কিছুটা ঘাটতি পূরণ করছে সরকার। শক্তিশালী মুনাফা ও চাহিদা এ উচ্চতর লভ্যাংশ তৈরিতে অবদান রেখেছে।