জ্বালানি তেলের বাজারে ক্রমে আধিপত্যশীল হয়ে উঠছে ব্রাজিল। ওপেক ও ওপেক প্লাস দেশগুলোর বাইরে একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ এখন ব্রাজিল। এতদিন জ্বালানি তেলের বাজারে ওপেক জোটের জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে দেশটির উত্তোলন প্রবৃদ্ধি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ার পর ব্রাজিল এখন ওপেকের জন্য বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে। বৈশ্বিক বাজারবিষয়ক গবেষণা ও তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিটের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএইচএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেরো ফিল্ড তেলক্ষেত্র পুনরায় চালু হওয়ার পর গত নভেম্বরে আবারো উত্তোলনে ধারাবাহিকতায় ফিরেছে ব্রাজিল। দেশটির আধা সরকারি তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাস গত সেপ্টেম্বরে মেরো ফিল্ডের এফপিএসও (ভাসমান অবকাঠামো) বন্ধ রাখে। নতুন একটি কূপকে সংযুক্ত করতে এফপিএসও বন্ধ রাখে প্রতিষ্ঠানটি। পরবর্তীতে চালু হওয়ার পর এ ফিল্ড থেকে দৈনিক ৪৩ হাজার ব্যারেল অতিরিক্ত জ্বালানি তেল উত্তোলন হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটির মোট জ্বালানি তেলের দৈনিক উত্তোলন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলের মতো। আর বার্ষিক হিসাবে অক্টোবের দেশটির মোট উত্তোলন প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ শতাংশ।
জ্বালানি তেলের বাজারে আধিপত্য বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলন বাড়িয়ে যাচ্ছে ব্রাজিল। এর মধ্যে গত দুই বছরে দেশটিতে আটটি এফপিএসও চালু হয়েছে, যার প্রত্যেকটির দৈনিক উত্তোলন সক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল। এছাড়া খুব তাড়াতাড়ি আরো কয়েকটি কূপ এসব এফপিএসওর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গায়ানা, নরওয়ের সঙ্গে যৌথভাবে ২০২০ সালে জ্বালানি তেলের উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে মনে করছে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইএইচএস মার্কিট।
এদিকে উত্তোলনের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারে ব্রাজিলের হিস্যা বৃদ্ধির চিত্রও উঠে এসেছে আইএইচএসের প্রতিবেদনে। সে অনুযায়ী গত নভেম্বরে দেশটি থেকে জ্বালানি তেলের দৈনিক রফতানি ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল, যা তার আগের মাসের তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। আর বার্ষিক হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি। রফতানি বৃদ্ধির এ ধারা গত বছরের মে মাস থেকে অব্যাহত রয়েছে। আর এ বছরের শুরুর কয়েক মাসে দেশটি থেকে গড়ে ১২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। যেখানে ২০১৮ সালের একই সময়ে রফতানি ছিল ১০ লাখ ব্যারেলের মতো।
জ্বালানি তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য ঠেকাতে এবং দাম বাড়াতে দীর্ঘদিন ধরে উত্তোলন ও সরবরাহ কমিয়ে যাচ্ছে ওপেক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উত্তোলনকারী দেশের কারণে জোটের চেষ্টা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। আর নতুন নতুন কূপ চালুর মধ্যে দিয়ে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জোটটির জন্য অন্যতম হুমকি হয়ে উঠছে ব্রাজিল। এ অবস্থায় ব্রাজিলকে ওপেকে যোগ দেয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে ওপেকের শীর্ষ উৎপাদক ও রফতানিকারক দেশ এবং জোটটির কার্যত নেতা সৌদি আরব।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মার্কিন শেল উৎপাদন ও রফতানি যে হারে বাড়ছে, তাতে ওপেকের একার পক্ষে আর জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এজন্য ব্রাজিলের মতো উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ সদস্য হলে ওপেকের জন্য বেশ সুবিধাই হবে। কারণ ওপেকে যোগ দিলে একক দেশ হিসেবে ব্রাজিল হবে ওপেকের তৃতীয় শীর্ষ উৎপাদক দেশ।









