ইউরোজোনের অর্থনৈতিক ক্ষত চলতি বছরের আগস্টে আরো গভীর হয়েছে। শিল্পোৎপাদন ও পরিষেবা খাতে কার্যক্রম শিথিল হওয়ার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক সূচকে। জুলাইয়ে ইউরোজোনের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) ৪৮ দশমিক ৬ পয়েন্ট থাকলেও আগস্টে ৪৭ পয়েন্টে ঠেকেছে। সম্প্রতি এমনটাই জানা গেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের জরিপে অংশ নেয়া ৮৫ শতাংশ কারখানার কার্যক্রম ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্নে। যদি মহামারীর সময়গুলোকে বাদ দেয়া হয়, তাহলে কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে ২০১৩ সালের পরে সর্বনিম্নে। আগস্টের সূচক থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে গত প্রান্তিকের তুলনায় জিডিপি বৃদ্ধির হার পতন ঘটতে পারে দশমিক ৩ শতাংশ। আর জুলাইকে বিবেচনায় নিলে জিডিপি দশমিক ২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

জার্মানিতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সংকুচিত হয়েছে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে। পরিষেবা ও শিল্পোৎপাদন খাতে ধীরগতি অব্যাহত। কোম্পানিগুলোয় এখনো সুদহার বাড়ানো, ভোক্তা চাহিদা হ্রাস ও মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিষেবা খাতে ফ্রান্সের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভালো। তার পরও খাতটিতে চাহিদা ও নতুন ক্রয়াদেশ কমে গেছে। ইউরোজোনের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশটিতে চলতি প্রান্তিকে অর্থনীতি সংকোচনের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশ ব্রিটেন। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মন্দার শঙ্কা দেখা দিয়েছে সেখানে। পিএমআই সূচকে কারখানা কার্যক্রমের মন্থরতাই উঠে আসছে। সুদহার বৃদ্ধির জেরেও দেখা দিয়েছে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। ঋণব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তারা সতর্ক হয়ে উঠছেন। তারা সংকুচিত করছেন খরচ। আর ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া প্রভাবিত করেছে পরিষেবা খাতের পিএমআইকে। মূল্য কমে যাওয়ায় চাহিদা কমে গেছে। পরিষেবা খাতের সূচক ছিল ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্নে। জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। তবে গত বছরের মূল্যস্ফীতির তুলনায় সূচক নিম্নমুখী। জার্মানি ও ফ্রান্সকে বাদ দিলে ইউরোজোনের বাকি অংশের শিল্পোৎপাদন কার্যক্রমে মাঝারি মানের পতন ঘটেছে। শিল্পোৎপাদন খাতের চলমান অবনতির সময়েই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে পরিষেবা খাতে।

জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারির পর ইউরোজোনে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির গতি ছিল সবচেয়ে মন্থর। টানা তৃতীয় মাসের মতো শিল্পোৎপাদন খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার নিম্নমুখী। গত এপ্রিলের পর থেকে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিয়ে দিয়েছে। ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক হয়ে উঠছে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে। কোম্পানিগুলো বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরে ও বিদেশের বাজারে অর্থনৈতিক মন্থরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের প্রভাব তো রয়েছেই। কয়েক মাসের তুলনায় পণ্যের মূল্য কমলেও বিক্রিমূল্য ও আমদানি খরচ ছিল বেশি। পণ্য ও পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই খরচ ছিল বেশি। তবে পরিষেবা খাতে ফি বৃদ্ধির হার ছিল ২০২১ সালের অক্টোবরের পর সবচেয়ে শ্লথ। উভয় খাতেই জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতির সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তবে আগস্টে ভোক্তাপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ছিল ৩ শতাংশের নিচে, জুলাইয়ে ছিল ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকেই সংকুচিত। তবে সর্বশেষ পিএমআইয়ে পতন ছিল সবচেয়ে বেশি। হেডলাইন সূচক ৪২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা রয়টার্সের দেয়া পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। তবে কারখানা কার্যক্রমে এখনো আশা অস্তমিত হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম তার অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠবে।