অ্যাঙ্গোলায় ১৫০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্লিন এনার্জি কোম্পানি মাসদার। কেন্দ্রটি অ্যাঙ্গোলার ৯০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও কার্বন নিঃসরণ কমবে। খবর খালিজ টাইমস।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দক্ষিণ অ্যাঙ্গোলার হুলিয়া প্রদেশের কুইপুঙ্গো অঞ্চলে তৈরি করা হবে। অঞ্চলটি পর্যাপ্ত পরিমাণে সূর্যের আলো থাকলেও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুতের অভাব রয়েছে। অ্যাঙ্গোলার অর্ধেকেরও কম মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে। সৌর প্রকল্পটি অ্যাঙ্গোলাকে ২০২৫ সালের মধ্যে ৬০ শতাংশ বিদ্যুতায়নে লক্ষ্য অর্জন করতে সহায়তা করবে।

মাসদার অ্যাঙ্গোলার জ্বালানি ও পানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সোলার প্লান্ট নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বৃহৎ এলাকাজুড়ে মাটির ওপরে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি সরবরাহ করার মাধ্যমে আফ্রিকার উন্নয়নে সহায়তা করবে। জ্বালানি শক্তির নিরাপত্তাহীনতা আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে সীমাবদ্ধ করেছে। কৃষি, ব্যবসা, বাড়ি ও পরিষেবা উন্নত করার জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ সহায়তা করবে।

সোলার ফার্ম নির্মাণের সময় ৬০০টি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্লান্টটি কয়েক দশক ধরে স্বচ্ছ জ্বালানি শক্তি উৎপাদন করবে। এছাড়া সেখানকার পরিবারগুলোয় বিদ্যুতের জন্য ডিজেলের মতো দূষিত জ্বালানি ব্যবহার বন্ধ করবে।

সোলার প্লান্টটি প্রতি বছর ২ লাখ ২৪ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে, যা রাস্তা থেকে ৫০ হাজার গাড়ি অপসারণের সমান হবে। এটি আর্থ-সামাজিক প্রবৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি অ্যাঙ্গোলার কার্বন হ্রাস করবে।

মাসদারের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আল জাবের ও অ্যাঙ্গোলার জ্বালানি ও পানিমন্ত্রী জোয়াও ব্যাপটিস্তা বোর্হেসের সঙ্গে নতুন সৌর প্লান্টের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অ্যাঙ্গোলার অব্যাহত সহযোগিতা আফ্রিকায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি শক্তি ও টেকসই প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অবদান রাখবে।

মাসদারের সিইও মোহাম্মদ আল রামাহি জানান, সৌর প্লান্টটি আফ্রিকার বিশাল স্বচ্ছ শক্তির সম্ভাবনা উন্মোচন করবে। মাসদার ২০৩০ সালের মধ্যে আফ্রিকাজুড়ে ১০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। এতে ১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। আধুনিক জ্বালানি শক্তি অ্যাঙ্গোলার মানুষের ক্ষমতায়ন তৈরিতে সহায়তা করবে।

অ্যাঙ্গোলা, উগান্ডা ও জাম্বিয়ার জন্য পাঁচ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ তৈরি করা কুইপুঙ্গো সৌর প্লান্টটি বৃহত্তর মাসদার উদ্যোগের অংশ।