মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে অপ্রত্যাশিতভাবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪ মাসে টানা ১০ বার সুদহার বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরেক দফা সুদহার বাড়াতে চায় ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক (ইসিবি)। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।

ইসিবির লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের মধ্যে রাখা। তবে এ লক্ষ্য নিকটভবিষ্যতে পূর্ণ হওয়ার সুযোগ দেখছেন না বিশ্লেষকরা। রয়টার্সের এক জরিপে উঠে এসেছে, আগামী ২০২৫ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের আগে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছবে না। চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থাকবে। আগামী বছর কমে ২ দশমিক ৭ শতাংশে আসবে এবং পরের বছরের মধ্যে এটি কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নামবে।

ইসিবি প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্দে চলতি সপ্তাহে সতর্ক করে বলেন, ‘‌মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয় ঘোষণা করার মতো পরিস্থিতি এখনো আসেনি।’

ইউরোজোনের মূল্যস্ফীতি এক বছর আগের সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমেছে। চলতি নভেম্বরের শেষ নাগাদ এটি ২ দশমিক ৬ শতাংশে এসে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, ইসিবি তার বর্তমান স্তর থেকে ৪ শতাংশ বেঞ্চমার্ক হার বাড়িয়েছে।

সম্প্রতি বেলজিয়ামের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পিয়া ওয়নশ জানান, বিনিয়োগকারীরা যত বেশি প্রাথমিক হার কমানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন, এটি তত বেশি আর্থিক অবস্থাকে শিথিল করবে, যা মূল্যস্ফীতিকে উচ্চ রাখতে পারে এবং ইসিবিকে বিপরীত করতে বাধ্য করতে পারে।

ইসিবি কাউন্সিলের অন্যতম সদস্য পিয়া ওয়নশ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‌আগামী বছর ইসিবি সুদের হার ১ শতাংশীয় পয়েন্ট কমাতে পারে। আবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।’

জার্মানির ডয়েচে বুন্দেস ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ইওয়াকিম নাখেল বলেন, ‘‌মূল্যস্ফীতি দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে। তবে এটি অব্যাহত থাকবে বলে মনে হয় না। আগামী কয়েক মাস অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। পথটা হবে বন্ধুর। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি।’

আইএমএফের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু দেশে মূল্যস্ফীতি হ্রাস পাচ্ছে বলে অসময়ে বিজয় উদযাপন করেছে। ইউরোজোনের জন্য এটি একটি স্পষ্ট বিপদ।’

ইসিবির শেষ বৈঠকের বিবরণে দেখা গেছে, বেশির ভাগ কাউন্সিল সদস্য মনে করেছিলেন আগামী কয়েক বছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কাজ করেছেন। নীতিনির্ধারকরা সম্মত হয়েছেন, প্রয়োজনে আরো সুদহার বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। এমনকি যদি এটি বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নাও হয়।