পেট্রোলিয়াম উৎপাদন ও বাজারে আধিপত্য ধরে রাখতে ১৯৬০ সালে ইরাকের বাগদাদে গঠন করা হয় অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ বা ওপেক। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও ভেনিজুয়েলা ছিল জোটটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। এরপর ওপেকে যাওয়া-আসা করেছে আরো অনেক ছোট-বড় উত্তোলক দেশ। বর্তমানে জোটটির সদস্য দেশ ১৪টি। এর মধ্যে ভেনিজুয়েলা, ইরাক, ইরানের জ্বালানি তেল উত্তোলন কমতির দিকে রয়েছে। ওপেক ছেড়েছে অন্যতম উত্তোলক দেশ কাতার, ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশ। আগামী বছর থেকে ওপেক ছাড়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে একুয়েডর। এছাড়া বাজার চাঙ্গা করার বাসনা নিয়ে কয়েক বছর ধরে উত্তোলন কমিয়ে যাচ্ছে ওপেকভুক্ত অন্য দেশগুলোও। তবে এর বিপরীতে থেমে নেই ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর উত্তোলন। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রসহ ওপেকবহির্ভূত দেশগুলোর আধিপত্য বাড়ছে। যার বিপরীতে ওপেকের হিস্যা কমে আসছে। চলতি বছর জ্বালানি তেলের বাজারে জোটটির হিস্যা এক দশকের সর্বনিম্নে কমে ৩০ শতাংশে এসেছে। ওপেকের সরবরাহ সংকট ভোক্তা দেশগুলোর ওপর এখন তেমন প্রভাব ফেলছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে তাই রাশিয়ার নেতৃত্বে ওপেকবহির্ভূত কয়েকটি দেশ নিয়ে ওপেক প্লাস জোট গঠন করেছে। তাতেও বাজার চাঙ্গা না হওয়ায় দেশটি এখন অন্যতম উত্তোলক ব্রাজিলের মতো দেশকে কাছে টানার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের বাজারে গুরুত্ব কমে আসবে ওপেকের।