চার মাস ধরে কমছে চীনের আকরিক লোহা আমদানি। সম্প্রতি কার্বন নিঃসরণ রোধে ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। এ কারণে দেশটিতে অস্ট্রেলিয়ার মূল্যবান রফতানি পণ্য আকরিক লোহার চাহিদা কমছে। খবর অস্ট্রেলিয়ান ফাইন্যান্সিয়াল রিভিউ।

আকরিক লোহার চাহিদা হ্রাসে ইস্পাত উৎপাদনে বিধিনিষেধের পাশাপাশি মহামারীর প্রভাবও ভূমিকা রেখেছে। গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মূল্যস্ফীতির চাপের মুখে পড়ে চীন। মন্থর হতে থাকে দেশটির উৎপাদন খাতে। ফলে আকরিক লোহা ব্যবহারে ভাটা পড়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, এর আগে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিলের সরবরাহ জটিলতার কারণে চীন আকরিক লোহা আমদানি কমিয়ে দিয়েছিল। তবে সম্প্রতি ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়ায় ধাতুটির প্রধান উৎপাদন উপাদান আকরিক লোহা আমদানিও কমিয়ে আনা হয়েছে।

এদিকে চীনে আকরিক লোহার চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ও খনিজ উত্তোলন খাতের জন্য দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে।

ধাতব পণ্যের তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মাইস্টিল এক প্রতিবেদনে জানায়, গত জুলাইয়ে চীনের আকরিক লোহা আমদানি কমে ৮ কোটি ৮৫ লাখ ১০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে। জুনে আমদানির পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে আমদানি ২১ শতাংশ কমেছে। গত বছরের জুলাইয়ে আমদানি হয় ১১ কোটি ২৬ লাখ টন।

ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান উপকরণটির আমদানি গত মার্চ থেকেই কমতে শুরু করে। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ জটিলতার কারণে আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। মার্চে চীন ১০ কোটি ২১ লাখ টন আকরিক লোহা আমদানি করে। এপ্রিলে আমদানির পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টন। মে মাসে আমদানি ৮ কোটি ৯৭ লাখ ৯০ হাজার টনে নেমে আসে। জুনে আমদানির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টনে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কার্বন নিঃসরণ রোধের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ইস্পাত উৎপাদন হ্রাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এটি আকরিক লোহা আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। ফলে অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল রফতানি বৃদ্ধি করলেও চীনে কমতে থাকে আকরিক লোহার চাহিদা।

এদিকে উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্তের পরও চীনে ইস্পাত উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির ইস্পাত উৎপাদন ১১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৫৬ কোটি ৩৩ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে উৎপাদন হ্রাসের প্রত্যাশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।