সরবরাহ বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের মূল্য নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করছে ভারত। এ লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে খোলাবাজারে গম বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। পাশাপাশি আটার মিল ও বিস্কুট কোম্পানিগুলোকেও গম সরবরাহ করা হবে। আগামী মাস থেকে কোম্পানিগুলোর কাছে গম সরবরাহ শুরু হতে পারে। সরকারি আদেশের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, আগামী মাস থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ফুড করপোরেশন অব ইন্ডিয়াকে (এফসিআই) প্রতি টন গম ২৩ হাজার ২৫০ রুপিতে (২৭৯ ডলার) নিজস্ব গুদাম থেকে বিক্রির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এ দাম খোলাবাজারের দামের চেয়ে প্রায় ১২ শতাংশ কম। তবে সরকারি মজুদ থেকে খোলাবাজারে মোট কী পরিমাণ গম সরবরাহ করা হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এফসিআই।

গত বছর জুনেও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে গম বিক্রি করেছিল এফসিআই। গত মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে রেকর্ড এক কোটি টনের কিছু বেশি গম সরবরাহ করে।

এ বিষয়ে মুম্বাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ী জানান, মূল্যছাড়ের কারণে ব্যবসায়ীরা এফসিআইয়ের থেকে বেশি পরিমাণে গম কিনতে আগ্রহী হবেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গম উৎপাদনকারী দেশ ভারত। দেশটিতে চলতি বছর গমের দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে দেশটি গম উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখিতা ধরে রাখলেও ২০২২ ও ২০২৩ সালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে তা কমে যায়। এ কারণে স্থানীয় বাজারে খাদ্যশস্যটির দাম বেড়ে গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় গম রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার।

সরকারি প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরও গম উৎপাদন ১১ কোটি ২০ লাখ টন থেকে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। গত ১ জুন ভারতে গমের রাষ্ট্রীয় মজুদ ছিল ২ কোটি ৯৯ লাখ টন, গত বছর যা ছিল ৩ কোটি ১৪ লাখ টন।

ভারত সরকার চলতি বছরের জুনে বাজারে গমের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সম্প্রতি পাইকারি পর্যায়ে সর্বোচ্চ তিন হাজার টন ও খুচরা পর্যায়ে ১০ টনের মজুদসীমা বেঁধে দিয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এ সীমা বহাল থাকবে। এমন পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে মজুদদারি রোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমদানি বাড়াতে খাদ্যশস্যটির আমদানি কর উঠিয়ে দেয়া হতে পারে। বর্তমানে গম আমদানিতে ৪০ শতাংশ কর দিতে হয়। কর বিলুপ্ত হলে বেসরকারি ব্যবসায়ীরা শীর্ষ রফতানিকারক দেশ রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে গম আমদানিতে উৎসাহিত হবেন।