ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় অলিভ অয়েলের উৎপাদন কমার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে স্পেন, পর্তুগাল ও ইতালির মতো দেশগুলোয় অলিভ অয়েলের উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হলে ব্যবসায়ীরা আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন। তবে উৎপাদন কমে যাওয়ার আভাসে তাদের সে মনোভাব অনেকটাই বদলে গেছে। খবর দ্য গ্রোসার।

অলিভ গাছে ফুল আসার পর প্রাথমিক পূর্বাভাসে বলা হয়, বিশ্বে ৩৩-৩৪ লাখ টন অলিভ অয়েল উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু ফুল থেকে প্রত্যাশিত ফল না আসায় গত সপ্তাহে পূর্বাভাস পর্যালোচনা করা হয়। পরে জানানো হয়, এ বছর অলিভ অয়েলের উৎপাদন দাঁড়াতে পারে ৩০ লাখ টনে। শেষ ফলন আশানুরূপ হলেও তাতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২৩ লাখ টন অলিভ অয়েল। কৃষকরা তাই সতর্ক করে বলেছেন, এবারের গ্রীষ্মেও যদি গত দুই বছরের মতো প্রচণ্ড গরম হয় তবে মোট উৎপাদন কমতে পারে।

গত মৌসুমে ইতালিতে অলিভ অয়েলের উৎপাদন ছিল তিন লাখ টন। দেশটিতে এবার ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার টন ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় যথেষ্ট কম। বিশ্বে অলিভ অয়েলের সর্ববৃহৎ উৎপাদক দেশ স্পেনে অলিভ অয়েলের উৎপাদনের পূর্বাভাস ১৫ লাখ থেকে নামিয়ে ১২-১৩ লাখ টনে নেয়া হয়েছে। ফিলিপ্পো বেরিওয়ের যুক্তরাজ্যের এমডি ওয়াল্টার জ্যানরে বলেছেন, ‘জুলাই-নভেম্বরের মধ্যে সরবরাহ সীমিত থাকবে এবং মজুদ করার জন্য বোতলজাতকারীদের নতুন মৌসুমের তেলের প্রয়োজন হবে।’

তিন বছর ধরেই ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় চলছে ভয়াবহ খরা। এতে অলিভ অয়েল উৎপাদনের ওপর পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে এর দাম। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো দেখায়, অলিভ অয়েলের গড় মূল্য এখনো বাড়ছে এবং বর্তমানে প্রতি বোতলের মূল্য ৮ দশমিক শূন্য ৪ পাউন্ড, যা গত বছরের একই সময়ের মূল্য ৫ দশমিক ৭৮ পাউন্ডের চেয়ে ৩৯ শতাংশ বেশি।

দ্য গ্রোসারের কেভিআই (কি ভ্যালু আইটেম) অনুসারে, নিজস্ব লেবেলের অলিভ অয়েলের গড় দাম গত সপ্তাহে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৭ দশমিক ৫৩ পাউন্ড ছিল। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের গুণগত মানও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াল্টার জ্যানরে।

নমুনা দেখে দ্য গ্রোসারও অলিভ অয়েলের মানের অবনতির কথা বলেছে। ওয়াল্টার জ্যানরে বলেন, ‘এখন ভালো মানের এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল কেনা প্রায় অসম্ভব।’