পরপর দুই বছর মন্দার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর ২০২০ সালে থাইল্যান্ডের চাল রফতানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর সূচনা এ প্রত্যাশা ওলটপালট করে দেয়। গত বছর রফতানি কিছুটা আশার আলো জাগায়। তবে এ বছর লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে কৃষিপণ্যটির রফতানি। সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।

বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছর থাইল্যান্ডে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ বছর তা আরো জোরদার হবে। এ সময় পরিবহন ও জাহাজীকরণসংক্রান্ত নানা জটিলতাও কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে দেশটি। রফতানি প্রবৃদ্ধিতে এ বিষয়গুলো বড় ভূমিকা রাখবে।

পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ থাকায় দেশটিতে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন গত বছরের তুলনায় বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ফলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রফতানি বাড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে ডলারের বিপরীতে থাইল্যান্ডের মুদ্রার বিনিময় মূল্য কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির চাল আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

চলতি বছর ৭০ লাখ টন চাল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে থাইল্যান্ড। তবে ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস এক পূর্বাভাসে জানায়, দেশটির চাল রফতানি ৮০ লাখ টনে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত বছরের তুলনায় রফতানি বাড়বে ৩১ শতাংশ। গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক রিপোর্টে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়। রিপোর্টে বলা হয়, ডলারের বিপরীতে থাই বাতের বিনিময় মূল্য কমছে। এ কারণে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে থাই চালের দাম। রফতানি লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ এটি।

ইউএসডিএ জানায়, চলতি বছর থাইল্যান্ডে চাল উৎপাদন বেড়ে ২ কোটি ৮ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮৮ লাখ টন।

তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে থাইল্যান্ড রেকর্ড সর্বোচ্চ চাল রফতানি করে। ওই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ১ কোটি ১৭ লাখ টন। এরপর টানা দুই বছর রফতানি কমেছে। ২০১৮ সালে থাইল্যান্ড থেকে চাল রফতানি আগের বছরের তুলনায় ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালে কমেছে ২৭ দশমিক ২৭ শতাংশ। ২০২০ সালে দেশটি দুই দশকের সর্বনিম্ন চাল রফতানি করে। রফতানিতে নিম্নমুখিতার কারণে দেশটিকে অতিক্রম করে ভিয়েতনাম বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারকের তকমা দখল করেছে।

বিশ্বব্যাপী চাল রফতানিকারকের তালিকায় শীর্ষে ভারত। এর পরই ভিয়েতনাম। তবে গত বছর থেকেই দ্বিতীয় শীর্ষ রফতানিকারকের তকমা পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে উঠেছে থাইল্যান্ড।

থাই রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছর থাইল্যান্ডের মুদ্রার তুলনামূলক স্থিতিশীল দামের কারণে চাল রফতানিকারকরা লাভবান হবেন। নিম্নমুখী মুদ্রার কারণে থাই চাল বাজারে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এছাড়া অনুকূল আবহাওয়াও রফতানিতে সুবিধা দিচ্ছে। গত বছর দেশটি ৬১ লাখ ১০ হাজার টন চাল রফতানি করে। ২০২০ সালে রফতানির পরিমাণ ছিল ৫৭ লাখ টন, যা দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন।