গত দশকের মাঝামাঝি সময় মেহেরপুরসহ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্তত আট জেলার গমখেতে আক্রমণ করে ব্লাস্ট ভাইরাস। এতে দিশাহারা হয়ে পড়েন চাষীরা। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ২০১৬ সাল থেকে এ অঞ্চলের জমিতে গম উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে কৃষি বিভাগ। ২০১৯ সালে ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিন বছর পর আবারো গম চাষে ফেরেন মেহেরপুরের কৃষক। এর পর থেকে লাভের মুখ দেখতে শুরু করায় কৃষিপণ্যটি চাষে আগ্রহ বাড়ে তাদের। কৃষি বিভাগের দাবি, মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে গত নয় বছরের সর্বোচ্চ গমের আবাদ হয়েছে।

কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত বারি-৩০ ও ৩৩ গম চাষে সফলতা পাচ্ছেন কৃষক। ভাইরাসটি একেবারে নির্মূল না হলেও গত কয়েক মৌসুমে এর প্রভাব পড়েনি গমখেতে। মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৯-২০ মৌসুমে পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি জাতের গমের আবাদ করেন কৃষক। ওই মৌসুমে লোকসান তুলনামূলক কম হয়। পরের তিন মৌসুম ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩-তে কিছুটা লাভের মুখ দেখেন জেলার গমচাষীরা।

আগের তিন মৌসুমের শূন্য অবস্থা থেকে ২০১৯-২০ মৌসুমে এসে মেহেরপুরে ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়। এরপর ২০২০-২১ মৌসুমে ১১ হাজার ৩৬০ হেক্টর, ২০২১-২২ মৌসুমে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং ২০২২-২৩ মৌসুমে চাষ হয় ১২ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে।

চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে নয় বছরের সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৫ হেক্টর জমিতে গমের চাষ হয়েছে। অধিকাংশ জমিতেই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী ব্লাস্ট প্রতিরোধী জাত বারি-৩০ ও ৩৩ গম আবাদ হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের কৃষক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘‌এ বছর আমার দেড় বিঘা জমিতে গম আছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরে গমের শিষ বেশ বড় আর দানাও মোটা হয়েছে। ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।’

আমঝুপি গ্রামের কৃষক লিপু মোল্লা জানান, চলতি মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে বারি-৩০ ও ৩৩ জাতের গম আবাদ করেছেন তিনি। এক বিঘা গম আবাদে খরচ হয় ৮-৯ হাজার টাকা। আর গম পাওয়া যায় ১৮-২০ মণ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষ্ণ কুমার হালদার বলেন, ‘‌ মেহেরপুরে ২০১৬ সালে প্রথম ব্লাস্ট শনাক্ত হয়। তখন চাষীদের গম চাষে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল। পরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও গম গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত ব্লাস্ট প্রতিরোধী এবং উচ্চ ফলনশীল গম আবাদের পরামর্শ দেয়া হয়। কৃষকদের প্রণোদনাও দেয়া হয়। কিন্তু পরামর্শ না মেনে অনেক কৃষক ঘরে থাকা পুরনো বীজ পরিশোধন ছাড়াই বপন করেছেন। ফলে কিছু খেতে ব্লাস্টের আক্রমণ দেখা গেছে। যদিও এর কোনো প্রভাব গমখেতে পড়েনি। আশা করছি, এবার সর্বোচ্চ লাভবান হবেন গমচাষীরা।’