বর্তমানে বিশ্ব দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো না গেলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে পিছিয়ে থাকতে হবে। কারণ এ সুযোগ সবসময় আসবে না। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা টেকসই রাখতে তরুণ এ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে।
রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে গতকাল ‘বিজনেস কেস কম্পিটিশন ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বক্তারা। বাস্তবধর্মী ব্যবসায়িক সমস্যার কৌশলগত সমাধানের ধারণা প্রদান বিষয়ে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা যৌথভাবে আয়োজন করেছে দ্য হংকং অ্যান্ড সাংহাই ব্যাংকিং করপোরেশন লিমিটেড (এইচএসবিসি) বাংলাদেশ ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।
এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের ৪৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন। একাধিক বাছাইপর্ব শেষে চূড়ান্ত পর্বের জন্য পাঁচটি দলকে নির্বাচিত করা হয়। এদের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ‘বাংলাদেশ গোল্ড’ পদক জিতে নেয় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) টিম সিক্স সেভেন। অন্যদিকে প্রথম রানারআপ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির টিম আর্কটিক উলভস পেয়েছে ‘বাংলাদেশ সিলভার’ এবং দ্বিতীয় রানারআপ বিইউপির টিম রটেন মার্স পেয়েছে ‘বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ’ পদক। এছাড়া চ্যাম্পিয়ন দল আগামী জুনে হংকংয়ে অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল বিজনেস কম্পিটিশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে বিচারক হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক হুসনে আরা শিখা, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম বাংলাদেশের রিজিওনাল কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউর রহমান এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক শামীমা আখতার।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ সময় তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে অংশীদারত্বের অন্যতম ভিত্তি শিক্ষা। ক্রমবর্ধমান আন্তঃসম্পৃক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব অর্থনীতিতে তরুণদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
সারাহ কুক আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো গভীর করতে চায় যুক্তরাজ্য। আমরা অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরবর্তী ধাপের ভিত্তি স্থাপনে সহায়তা করতে চাই। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ সরকার একটি স্বচ্ছ, স্থিতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করছে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে রয়েছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। অন্যদিকে রয়েছে দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের সক্ষমতা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি অর্থনীতির একটি হওয়ার সম্ভাবনা।’
উদ্ভাবনের জন্য এমন বড় সুযোগ আগে কখনো আসেনি—উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘শুধু সুযোগ থাকাই যথেষ্ট নয়, আমাদের এমন মানুষ প্রয়োজন যারা সমালোচনামূলকভাবে চিন্তা করতে, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে এবং সমাজের জন্য প্রকৃত মূল্য তৈরি করতে পারে। বিজনেস কেস কম্পিটিশন ঠিক এ কাজই করে। এখানে শ্রেণীকক্ষের তত্ত্ব এবং বাজারের জটিল বাস্তবতার মধ্যে একটি যোগসূত্র তৈরি করা হয়।’
অনুষ্ঠানে এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, ‘বর্তমান দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা অর্জনের জন্য স্থানীয় জ্ঞান ও আন্তর্জাতিক মানের সমন্বয় প্রয়োজন। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আমরা একাডেমিক উৎকর্ষ ও বাস্তবিক প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান দূর করতে চাই। এটি কেবলই শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়িক কেস সমাধানে চ্যালেঞ্জ নয়; বরং তাদের এমন একটি বৈশ্বিক মানসিকতা গড়ে তুলতে সহায়তা করা, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের যেকোনো বোর্ডরুমে নেতৃত্ব দানে সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।’
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক বিজনেস স্কুলের ডিন মোহাম্মদ মুজিবুল হক। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার ও রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডল্যান্ড প্রমুখ।
এইচএসবিসি জানিয়েছে, ১৪তম বর্ষে পদার্পণ করা এ প্রতিযোগিতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৪৪ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে তাদের কোচসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।










