ট্যারিফ বা শুল্ক চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে একটি যৌথ সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই।
জাপানের ৫৫ হাজার কোটি (৫৫০ বিলিয়ন) ডলারের বিশাল বিনিয়োগ চুক্তির আওতায় এ কারখানা নির্মাণ হবে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে ২-৩ লাখ কোটি ইয়েন। আমেরিকান ডলারে এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১ হাজার ২৮০ কোটি থেকে ১ হাজার ৯৩০ কোটি ডলার।
এতদিন এ শুল্ক চুক্তির অধীন জাপানি বিনিয়োগ কেবল বিদ্যুৎ খাতেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নতুন পর্যালোচনার মাধ্যমে এবার প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতকেও যুক্ত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম একটি চিপ কারখানা তৈরির ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিরা এ প্রকল্পে কী পরিমাণ মূলধন ও ভবিষ্যতে কেমন মুনাফা আসতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন। দুই দেশের মধ্যে কর্মপর্যায় বা ওয়ার্কিং লেভেলে এ নিয়ে কয়েক দফা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন চুক্তিভিত্তিক চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান গ্লোবালফাউন্ড্রিজ নতুন কারখানাটি পরিচালনা করবে। কারখানাটিতে মূলত লজিক সেমিকন্ডাক্টর বা আধুনিক কম্পিউটার চিপ তৈরি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক ইতিবাচক রাখতে এবং কম শুল্কে ব্যবসা করার সুবিধা পেতে জাপান বিপুল অর্থ বিনিয়োগের চুক্তি বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। চিপ কারখানা নির্মাণ তারই একটি প্রকল্প।
যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান সাম্প্রতিক সময়ে সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে চিপের গুরুত্ব বাড়ায় দুই দেশের জন্যই স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শুল্ক চুক্তির আওতায় জাপানের বিনিয়োগ পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোর পাশাপাশি এখন প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাত যুক্ত হলে দেশটির বিনিয়োগের পরিধি আরো বাড়বে। তবে নতুন চিপ কারখানার অর্থায়ন, পরিচালনা ও বিনিয়োগ ফেরতের কাঠামো নিয়ে দুই দেশের আলোচনা এখনো চলমান।










