২০২৬ সালে ভারতের বাজারে বার্ষিক ১০ কোটি ডলার বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাপানি স্পোর্টস পণ্য প্রস্তুতকারক অ্যাসিকস। দেশটিতে ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্তের মধ্যে ‘রানিং সু’ ও অন্যান্য অ্যাথলেটিক পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বাজার ধরতে চায় কোম্পানিটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
অ্যাসিকসের বড় আকারের এমন লক্ষ্য নির্ধারণের পেছনে ভূমিকা রেখেছে ২০২২ সালে ১৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির বিষয়টি। ফলে ২০২৬ সালের মধ্যে ভারতের বাজারে দৌড়ের সরঞ্জাম সরবরাহে তৃতীয় বৃহত্তম কোম্পানি হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে অ্যাসেকস। বর্তমানে কোম্পানিটির অবস্থান চতুর্থ স্থানে বলে মনে করা হচ্ছে।
লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ভারতে স্টোরের সংখ্যা বাড়াতে চায় কোম্পানিটি। শুধু অ্যাসিকসের পণ্য বিক্রি করে এমন স্টোরের সংখ্যা বর্তমানে ৯৬টি, যা বাড়িয়ে ২১৮টিতে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে সরাসরি পরিচালিত বেশ কয়েকটি নতুন স্টোর খোলা হবে।
এছাড়া ভারতে বেশকিছু কারখানা স্থাপন করতে চায় অ্যাসিকস। যেখানে স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদন বাড়ানো হবে। স্থানীয় উৎপাদন ৪৪ শতাংশ থেকে ৫২ শতাংশে উন্নীত করতে এ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া উৎপাদন বাড়লে এখান থেকে ভারতের বাইরেও পণ্য রফতানির আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।
অ্যাসিক্স ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রজত খুরানার মতে, ভারত এরই মধ্যে ১০ কোটি দৌড়বিদের আবাসস্থল।
গবেষণা সংস্থা আইএমএআরসি গ্রুপ পূর্বাভাস দিয়েছে, ভারতে দৌড়ের সরঞ্জামের বর্তমান বাজার ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৮ সাল নাগাদ এটি ৩৪০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে।
কভিড মহামারী চলাকালে সামাজিক দূরত্ব মেনে দৌড়ানো ব্যায়াম হিসেবে বিশ্বব্যাপী বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। ফলে জুতার বাজার বেড়ে যায়। ২০২২ সালে ভারত থেকে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার আয় করেছে অ্যাসিকস। এটা ২০১৯ সালের চেয়ে ৮১ শতাংশ বেশি। এতে পরিচালন মুনাফা ৮ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
অ্যাসিকস স্থানীয় ম্যারাথন স্পন্সরের পাশাপাশি বিখ্যাত অভিনেতা ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে অংশীদারত্বসহ ভারতে ব্র্যান্ডটিকে আরো বিস্তৃত করতে কাজ করছে। ব্র্যান্ডটির নিজের দেশ জাপানের জনসংখ্যা সংকুচিত হওয়ায় মোট আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশই এখন বিদেশ থেকে অর্জন করে।
অ্যাসিকসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসুহিতো হিরোতা বলেন, ‘আমরা ভারতে আমাদের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং বাজার বৃদ্ধির চালক হতে চাই।’










