এর প্রভাবে চলতি গ্রীষ্মে ব্রিটিশ পর্যটকদের মধ্যে দেশেই ছুটি কাটানোর প্রবণতা বেড়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যের পর্যটকরা এখন বিদেশের দীর্ঘ যাত্রার বদলে নিজ দেশের ভেতরেই অবকাশ যাপনকে নিরাপদ মনে করছেন। দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের হলিডে পার্ক অপারেটর লোভাটের প্রধান নির্বাহী রাউল ফ্রেজার জানান, জেট জ্বালানি সংকটের খবর আসার পর থেকে চলতি বছর সংস্থাটির বুকিং গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান
বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা কভিড-১৯ মহামারীর সময়ের মতো, যখন মানুষ বিদেশ যেতে না পেরে দেশের ভেতরেই নিশ্চয়তা খুঁজত।
এদিকে হলিডে রিসোর্ট কোম্পানি বাটলিন্স গ্রীষ্মকালীন ছুটির জন্য শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির দেখা পেলেও প্রধান নির্বাহী জন হেন্ড্রি পিকআপ একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও ভ্রমণ অনিশ্চয়তায় অনেক পরিবার এখন একেবারে শেষ মুহূর্তে বুকিং দিচ্ছে। আগে যেখানে মাত্র ১৫-২০ শতাংশ মানুষ ভ্রমণের চার সপ্তাহ আগে বুকিং দিত, এখন সে হার দ্বিগুণ হয়ে প্রায় ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
একইভাবে ল্যান্ডাল ইউকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরেমি হিপকিস বলেন, ‘মানুষ এখন গাড়ি বা গণপরিবহনে সহজে পৌঁছানো যায় এমন গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন। তাদের কর্নওয়াল, স্কটল্যান্ড ও লিংকনশায়ারের পার্কগুলো এখন পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয়।’
যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি গত ফেব্রুয়ারিতে ৩ শতাংশে স্থির ছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তা পুনরায় বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্যারাভান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উইলারবির প্রধান নির্বাহী পিটার মুঙ্ক বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় মানুষ এখন দীর্ঘ ভ্রমণের বদলে অল্পদিনের জন্য বা বাড়ির কাছের কোনো গন্তব্য বেছে নিচ্ছে।’
বার্কলেসের তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের পর গত মার্চে এ প্রথম ভ্রমণ ব্যয় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। ট্রাভেল এজেন্টদের আয় ৪ দশমিক ৬ ও এয়ারলাইনসগুলোর আয় ৪ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিন্টেলের ট্রাভেল অ্যানালিস্ট সিনাড ও’কনর বলেন, ‘অর্থনৈতিক চাপ থাকলেও মানুষের ভ্রমণের ইচ্ছা কমেনি। জরিপ অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক নিজ দেশে ও ৪৯ শতাংশ বিদেশে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। ফলে চলতি বছর যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বাজারের আকার ৭ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছবে, যা বৈদেশিক ভ্রমণ বাজারের প্রবৃদ্ধিকে (৪ দশমিক ৮ শতাংশ) ছাড়িয়ে যাবে।’










