২০২২ সালে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে বৈশ্বিকভাবে রেকর্ড ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। মহামারী-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার পথে সম্প্রসারণ হয়েছে জীবাশ্ম জ্বালানি খাত। জ্বালানি তেল, কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভর্তুকি ছিল বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ৭ দশমিক ১ শতাংশের সমান। ভর্তুকির পরিমাণ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের চেয়ে বেশি। সম্প্রতি এমনটাই জানা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিবেদনে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
জীবাশ্ম জ্বালানিতে ভর্তুকি গত দুই বছরে ২ ট্রিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সরকারের প্রত্যক্ষ ভর্তুকি ব্যয় বেড়ে প্রায় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। আইএমএফের প্রতিবেদন বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দহনের মাধ্যমে পরিবেশের বিপুল ক্ষতি হয়। বিশেষ করে স্থানীয় বায়ুদূষণ ঘটে, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ভর্তুকির বড় অংশকেই বিবেচনা করা যায় অন্তর্নিহিত ভর্তুকি হিসেবে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির দাম প্রকাশ হয় না।
ভোক্তারা গত বছর ৫ ট্রিলিয়নের বেশি পরিবেশের পেছনে ব্যয় করেনি। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ব্যয় ও কার্বন নিঃসরণের মাত্রাকে প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী রাখার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে। দেশে দেশে নেয়া হয়েছে পদক্ষেপ। যখন কোনো সরকার দেশের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য শিল্প-কারখানাগুলোকে কোনো প্রকার জরিমানা করে না, তখন তা অন্তর্নিহিত ভর্তুকি বলে গণ্য হয়। এটি আগামী দিনে উন্নয়নশীল দেশুগুলোয় বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। এদিক থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্রমশ উন্নত দেশগুলোর পর্যায়ে চলে আসছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) মতে, বৈশ্বিক কয়লার চাহিদা চলতি বছর রেকর্ড উচ্চতায় থাকবে। কারণ এশীয় অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদা ও শিল্পোন্নত কার্যক্রম বেড়েছে। তার জন্য চাহিদা বাড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানির। গত বছর কয়লার ব্যবহার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউরোপে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ছিল অন্যতম প্রধান অনুঘটক। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। আইইএর দাবি, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদা চলতি বছরে দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হবে। বর্ধিত চাহিদার সিংহভাগের পেছনের কারণ হিসেবে থাকবে চীনের চাহিদা বৃদ্ধি।
আইএমএফ দাবি করেছে, যদি সরকারগুলো প্রকাশ্য ভর্তুকি দেয়া বন্ধ করে এবং শুল্ক আরোপ করে, তাহলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাবে। এর মাধ্যমে পরিবেশজনিত খরচ সম্পর্কে শিল্প কারখানা ও মানুষ জানতে পারবে। বিশেষ করে তারা ব্যয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। ভর্তুকি অপসারণ করা হলে আয় নিয়ে পুনরায় ভাবার সুযোগ তৈরি হবে। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে যেকোনো ধরনের ভর্তুকি ও বিনিয়োগ গরিব মানুষের চেয়ে ধনী পরিবারগুলো বেশি সুবিধা পায়। আইএমএফ মনে করে, সরকারগুলোকে এ বিষয়ে আরো প্রায়োগিক সংস্কার চিন্তাকে সামনে আনতে হবে। আর গৃহীত নীতিমালাকে স্বচ্ছ ও সতর্কতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করতে হবে, যেন পুরোপুরি সুবিধাটুকু নেয়া যায়।
আইএমএফ বলেছে, ‘আয় বৃদ্ধির একটা অংশকে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। বাকি অংশকে ব্যবহার করা যেতে পারে ট্যাক্স কমানোর পেছনে, শিক্ষা, চিকিৎসা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের পেছনে। এর আগে মে মাসে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, জীবাশ্ম জ্বালানি, কৃষি ও মাছচাষে ভর্তুকির পরিমাণ ৭ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ৮ শতাংশের সমান। জীবাশ্ম জ্বালানির ভর্তুকি আরো উৎপাদনমুখী ও টেকসই খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে।










